২০ এপ্রিল ২০২১
`

১২০ কোটি টাকার ছবি ‘দিন : দ্য ডে’ : অনন্ত জলিল

১২০ কোটি টাকার ছবি ‘দিন : দ্য ডে’ : অনন্ত জলিল - ছবি : নয়া দিগন্ত

ইরানের সাথে যৌথ প্রযোজনায় ‘দিন : দ্য ডে’ সিনেমা বানাতে খরচ হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। ছবির বাংলাদেশী প্রযোজনা সংস্থা মুনসুন ফিল্মসের চেয়ারম্যান অনন্ত জলিল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ছবিটিতে অভিনয় করা ভারত, ইরান, তুরস্ক ও বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া এবং ‘নেত্রী : দ্য লিডার’ সিনেমার কলাকৌশলীদের নাম ঘোষণা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন অনন্ত জলিল। তিনি বলেন, ‘ছবির গান এবং অ্যাকশন দৃশ্য দেখলে সহজেই বোঝার কথা এই ছবির বাজেট আসলে কত। একটি গান করতে কত দেশে যেতে হয়েছে। প্রথমে ইরান। সেখান থেকে তারকি (তুরস্ক) নেমেই ইস্তাম্বুল তারপর সিরাজ নগরী।’ অনন্ত জলিল পাশে বসা ইরানি প্রযোজকের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা সবাই মিলে ছবিটির খরচ হিসাব করে দেখেছি। ছবির বিভিন্ন প্রজেক্টে আমাদের খরচ হয়েছে প্রায় টেন পয়েন্ট টু মিলিয়ন ইউএস ডলার।

অনন্ত বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী কোরবানির ঈদে মুক্তি দেয়া হবে ‘দিন : দ্য ডে’। ছবির নাম দেখে অনেকের মনে হয়েছে এটি ধর্মীয় পটভূমিতে নির্মিত। কিন্তু অনন্ত জলিল বললেন, এই সিনেমার সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। এর গল্প তৈরি হয়েছে প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে। আপনারা ‘দিন’ বানানটা দেখলেই সেটি বুঝতে পারবেন। এখানে ‘দিন’ শব্দটা এসেছে দিনকাল থেকে ধর্মের ‘দ্বীন’ নয়। অনন্ত বলেন, সব সময় চেষ্টা করি গল্পের চাহিদা অনুযায়ী যা যা করণীয় তা করতে। সিনেমা নির্মাণের সময় গল্প ফুটিয়ে তুলতে যখন যা প্রযোজন হয়েছে সব চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেছি। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখলে সেটি আরো স্পষ্ট করতে হবে।

নতুন ছবি ‘নেত্রী : দ্য লিডার’ নিয়ে অনন্ত বলেন, ‘এই ছবিটি আরেকটি বিগ বাজেটের আন্তর্জাতিক মানের ছবি হবে। এরই মধ্যে শুটিংয়ের জন্য সব কিছু প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন শুধু শুটিং শুরুর অপেক্ষা।’ ছবিতে ‘নেত্রী’ চরিত্রে অভিনয় করবেন বর্ষা। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমার অনেক ভালো লাগে। সরাসরি ওনার সাথে কোনো দিন দেখা না হলেও প্রধানমন্ত্রীর বৈশিষ্ট্যগুলো আমাকে মুগ্ধ করে। বলা যেতে পারে ওনার কার্যক্রম থেকে অনুপ্রাণীত হয়েই ‘নেত্রী : দ্য লিডার’ সিনেমাটি করা হচ্ছে।’ তবে এই সিনেমাকে কোনোভাবেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বায়োগ্রাফি বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন অনন্ত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দেখে অনুপ্রাণীত হলেও এই সিনেমার গল্প কিন্তু অন্যভাবে লেখা। ‘নেত্রী: দ্য লিডার’-এ আরো দেখা যাবে ইলিয়াস কাঞ্চন, কাজী হায়াতের পাশাপাশি তুরস্কের প্রথম সারির কয়েকজন শিল্পীকে। তুরস্কের অভিনয় শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম এরতুগ্রুল সাকারও এতে থাকছেন।

এদিকে শনিবারের এই অনুষ্ঠান ঘিরে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে বাদানুবাদ তৈরি হয় অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইভেন্ট মেনেজমেন্ট কোম্পানির। ইভেন্ট মেনেজমেন্ট কোম্পানির উল্টা পাল্টা আচরণে বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এতে চটে গিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে চাইলে অনন্ত জলিল নিজে এসে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ‘সরি’ বলেন, এরপরে সাংবাদিকরা শান্ত হলেও কিছু সাংবাদিক অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে চলে যান।

অনন্ত জলিল দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘আপনারা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের লোকদের ওপর রাগ করে চলে যাবেন এটি হতে পারে না। ওরা ইভেন্টের দায়িত্বে ছিল, ওরা আমাদের পার্টনার নয়, ওরা ছবির মালিকও নয় প্রডিউসারও নয়। আমি সবচেয়ে বেশি সাংবাদিকদের সম্মান করি। এটা সবাই জানে অনন্ত ভাই কত শ্রদ্ধা করে সাংবাদিকদের। আমি কোনো অনুষ্ঠানে গেলে কখনো আগে বসি না, আগে সাংবাদিকদের সাথে দেখা করি। আমি এতটাই শ্রদ্ধা করি সাংবাদিকদের। একটি ইভেন্ট কম্পানির জন্য তো আমি দায়ী হতে পারি না।’
অনন্ত জলিলের এই কথার রেশ ধরে গণমাধ্যমকর্মীরা বলে ওঠেন, ‘আপনি কেন এদের দায়িত্ব দেন যারা আপনার সম্মান নষ্ট করে?’ এই প্রশ্নের রেশ ধরে অনন্ত জলিল বলেন, ‘এই যে ভালো একটি কথা বলেছেন, আমরা একটি কোম্পানিকে হায়ার করি। এখন বলতে পারেন ভবিষ্যতে এই কম্পানি আর কাজ পাবে কি না, ইউ গাইজ আর নোজ। আমরা অনুষ্ঠান করতেছি এটির নামই হলো প্রেস কনফারেন্স ইনক্লুডিং ওপেনিং সেরেমোনি। এখানে ওই কোম্পানি যদি খারাপ করে থাকে ভবিষ্যতে তারা কাজ পাবে কি না, আই ডোন্ট নো, এটি আপনারাই ভালো বলতে পারবেন।’

গণমাধ্যমকর্মীরা বলে ওঠেন- ‘এরা যে আজ আপনার ইমেজ নষ্ট করলো, অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটালো- এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে অনন্ত জলিল বলে ওঠেন, ‘এতে আমার ইমেজ নষ্ট হবে না। আমার যদি ইমেজ নষ্ট হতো তাহলে অনন্ত আজকের এই পর্যায়ে উঠে আসতে পারতো না। আজকে যদি আমি খারাপ ব্যবহার করি, অন্তত সাংবাদিকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করি তাহলে ভবিষ্যতে সিনেমাই করবো না।’

তাৎক্ষণিকভাবে অনন্ত জলিল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত কর্মীকে ‘ক্লোজ’ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশে আমার বদনাম নাই। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বদনাম করার চেষ্টা করে তাহলে সেটা পারবে না। কারণ আমি মিডিয়ার সাথে খারাপ ব্যবহার করি না।’



আরো সংবাদ