২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১১ আশ্বিন ১৪৩০, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫ হিজরি
`
উৎপাদন ঘাটতি দেড় লাখ টন

মাঠে পাইকারী লবণ বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ৪০০ টাকা

উৎপাদন ঘাটতি দেড় লাখ টন। - ছবি : নয়া দিগন্ত

চলতি মৌসূমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দেড় লাখ টন লবণ উৎপাদন ঘাটতি হলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন বিসিকের লবণ প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার মো: জাফর ইকবাল ভূঁইয়া। এবার যে পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়েছে তা শেষ হওয়ার পূর্বেই নতুন বছরের লবণ উৎপাদন শুরু হবে সে কারণেই দেশে লবণের কোনো ঘাটতি দেখা দেবে না বলে শনিবার (১০ জুন) বিকেলে তিনি নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন।

এ দিকে শনিবার পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে চাষিদের কাছে মোজুদ লবণ বিক্রি হয়েছে ধোলাই খরচ ৪০ টাকাসহ প্রতিমণ ৪৪০ টাকা। সে হিসাবে প্রতিমণ লবণ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ আরো ২৭০ টাকা ও ধোলাই খরচ ৪০ টাকা বাদে তাদের পকেটস্থ হয়েছে ১০০ থেকে প্রকার ভেদে ১১০ টাকা।

বিকেলে বাঁশখালী সনুয়ার লবণ চাষি মো: বেলাল জানান, তারা ধোলাই খরচসহ পাইকারী প্রতিমণ ৪৪০ টাকা অপরিশোধিত লবণ বিক্রি করেছেন। তার কাছে আরো প্রায় ৬০০ মন লবণ মোজুদ রয়েছে।

জানা গেছে, চলতি মৌসূমের (২০২২-২০২৩) শেষ প্রান্তে ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে লবণ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পুরণ না হলেও দেশে লবণ উৎপাদনের ৬৩ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২ লাখ ৩২ হাজার ৮৯০ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। যদিও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩ লাখ ৮৫ হাজার টন।

এ দিকে চট্টগ্রামের লবণ ক্রাসিং কারখানা প্রতি দুই মণ অপরিশোধিত লবণ পাইকারী ক্রয় করেছে পটিয়ায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১২০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৩০ টাকা। আর মাঝিরঘাটে প্রায় একই দামে প্রতি দু’মণ লবণ সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৪০ টাকা করে ক্রয় করেছে।

বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বলেন, গতবছর বা মৌসূমে প্রতি দু’মণ লবণ পাইকারী ক্রয় করেছে আরো অনেক কম দামে। তিনি বলেন, লবণ পাইকারী বেশি দামে ক্রয় করলেও আজ পর্যন্ত ক্রাস করে ওই লবণ প্রতিবস্তা ৭৫ কেজি পাইকারী বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯২০ থেকে প্রকার ভেদে ৯৫০ টাকার মধ্যে।

তিনি আরো বলেন, গত দুই বছরে খুচরা বাজারে লবণের দাম তেমন বাড়েনি। ভ্যাকুয়াম পদ্ধতির মিহি লবণও পাইকারী ৩২ থেকে ৩৩ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার লবণের দাম তেমন বাড়েনি বলে খুচরা লবণ বিক্রেতারা মুদি দোকানীরা জানিয়েছেন।

তারা জানান, প্রতিকেজি লবণ ভ্যাকুয়াম পদ্ধতির লবণ প্রতি কেজি গত বছরও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে। আজকে তারা প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি করছে। অন্য দিকে ভ্যাকুয়াম পদ্ধতি ছাড়া প্রতি কেজি লবণ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা।

দোকানীরা জানান, প্রায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও লবণের দাম বাড়েনি।

বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বলেন, মাঠে চাষিদের কাছে এখন লবণ খুব কম পরিমাণ রয়েছে। যে কারণে মাঠের পাইকারী লবণের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন চাষিরা। এক সময়ে দেশে প্রতি বছর সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে লাখ লাখ টন সোডিয়াম ক্লোরাইড আমাদানী করতো অসাধু ব্যাবসায়ীরা। এছাড়া মিস ডিলারেশনের মাধ্যমেও লাখ লাখ টন লবণ আমাদানী করতো। সে কারণে দেশে লবণ উৎপাদন করে চাষিরা লাভের মুখ দেখত না। এ নিয়ে নয়া দিগন্তে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার লবণ শিল্প ও চাষীদের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির ওপরে শুল্কহার ৩২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮৯ শতাংশ করে। ফলে আমদানীকৃত লবণের মূল্য বেশি হওয়ায় আমদানীকারকরা অতিরিক্ত লবণ আমদানীতে নিরুৎসাহিত হয়। এতে দেশে লবণ শিল্পে প্রাণ ফিরে আসে। এছাড়া বিসিকের উদ্যোগে নাম মাত্র সুদে গত মৌসূম থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে চাষিরা রেয়াতি সুদে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার কৃষি ঋণ সুবিধাও দিয়ে আসছেন। সে কারণে লবণ উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিসিক লবণ প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, গতবছর পবিত্র ঈদুল আযহার কোরবানিতে চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত লবণ প্রয়োজন হয়েছে। এবারো ১ লাখ টনের বেশি প্রয়োজন পড়বে না বলে তিনি মনে করেন।


আরো সংবাদ



premium cement