৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

৩৫ বছর ধরে মানবেতর জীবন যাপন প্রতিবন্ধী মজনু মিয়ার

৩৫ বছর ধরে মানবেতর জীবন যাপন প্রতিবন্ধী মজনু মিয়ার - ছবি : নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মোহাম্মাদ মজনু মিয়া (৪৫) সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় ৩৫ বছর ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি গায়ে পোশাক পরেন না। পরিয়ে দেয়া হলেও তা থাকে না। পা দু’টি পেছনে এবং হাত দু’টি সামনের দিকে বাঁকিয়ে কিম্ভূতকিমাকার ভঙ্গিতে চলাচল করেন তিনি। রাতে ভয়ঙ্কর এ হাঁটার দৃশ্য দেখে অনেকেই ভয়ে আঁতকে ওঠেন।

উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আইরল গ্রামের মো: রবিউল্লাহর ছেলে প্রতিবন্ধী মজনু মিয়া। পাঁচ বছর বয়সে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে তার হাত-পা বেঁকে যায়। এরপর থেকেই চতুষ্পদ জন্তুর মতো বাঁকিয়ে হাঁটেন তিনি। সারাদিন এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে বেড়ান।

জানা যায়, পাঁচ বছর বয়সে অন্য ১০টি শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা ও হাঁটাহাঁটি করতেন মজনু। হঠাৎ এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে আর হাঁটতে পারেন না তিনি। জমি-জমা বিক্রি করে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করিয়েও কোনো ফল না পাওয়ায় চিকিৎসা বন্ধ করে দেন তার বাবা-মা।

চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মজনু মিয়া ভাইদের মধ্যে সবার বড়। সাত ভাই-বোনের মধ্যে মজনুর অবস্থান দ্বিতীয়।

মজনুর বাবা রবিউল্লাহ জানান, মজনু সারাদিন বাইরে থাকেন। এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে বেড়ান। তাকে খুঁজে পেতে কষ্ট হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় খুঁজে বের করে বাড়িতে নিতে হয়। এ কষ্ট থেকে বাঁচার জন্য কিছুদিন তাকে উঠানে গর্ত করে গর্তের ভেতর আটকে রাখা হয়েছিল। কান্নাকাটি করে বলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

মা অনুফা বেগম জানান, ‘ডাক্তার, কবিরাজ, ঝাঁড়ফুক থেকে শুরু করে সব ধরণের চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু এ রোগের কোনো সমাধান হয়নি। মজনুকে নিজ হাতে খাইয়ে দিতে হয়। প্রস্রাব-পায়খানা করলে তিনি নিজ হাতে পরিষ্কার করেন। ছেলের সুচিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।’

মজনুর ছোট বোন লাইলী বেগম বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে মা-বাবা আমার এ প্রতিবন্ধী ভাইকে দেখাশোনা করছেন। তাকে খাওয়া-দাওয়া ও গোসল করাচ্ছেন।’ এ ছাড়াও তিনি মা-বাবার মৃত্যুর পর তার প্রতিবন্ধী ভাইকে সার্বিক দেখাশোনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

তার ভাই মজনু মিয়ার সুচিকিৎসার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান লাইলী।

আইরল গ্রামের বাসিন্দা ও নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফতেহ আলী বলেন, ‘মজনু আমার ভাগিনা। সে কাপড় পরে না। নগ্ন থাকে। কাপড় পরালে খুলে পড়ে যায়। সে নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ডা: সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, এ রোগটাকে টেনসিন্ড্রোম বলা হয়। এটা নিউরোনাল, জেনেটিক এবং পরিবেশগত সাবসিস্টেম।


আরো সংবাদ


premium cement