৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

পলেস্তরা খসে পড়ার আতঙ্কে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

পলেস্তরা খসে পড়ার আতঙ্কে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা - ছবি : নয়া দিগন্ত

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসা ভবনের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ার আতঙ্কে আছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রাণহানিসহ মারাত্মক দুর্ঘটনার আতঙ্কের মধ্য দিয়ে পঠন-পাঠন চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ শিক্ষা কার্যক্রমের অনুপযোগী হলেও উপায়হীন হয়ে ঝুঁকির মধ্য দিয়েই দৈনন্দিন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।’

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফছানা আক্তার জানান, ‘ক্লাসে বসতে ভয় লাগে। কখন যেন ছাদ ভেঙে মাথার ওপর পড়ে।’

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান জানান, ‘মাথার উপরে ছাদে ফাটল। পলেস্তরা খসে খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলে ছাদ বেয়ে পড়া পানিতে বই খাতা ভিজে যাচ্ছে। ক্লাস করলেও ভয়ের মধ্যেই থাকি।’

দশম শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার জানান, ‘মাদরাসা ভবনের বয়স বেশি না হলেও পুরাতন ভবনের মতোই নাজুক অবস্থা। ভবনের পিলারে বড় বড় ফাটল। ছাদের প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে। দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের সময় পলেস্তরা পড়ে এক শিক্ষার্থী আহতও হয়েছেন।’

মাদরাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মাওলানা মাহবুবুর রহমান জানান, ‘মাদরাসাটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও চার কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে। গত দু’বছর থেকে ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা। বর্তমানে বেশ ঝুঁকির মধ্য দিয়ে পঠন-পাঠন চালিয়ে নিতে হচ্ছে।’

তিনি আরো জানান, ‘ছাদ বেয়ে বৃষ্টির পানি পড়ায় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্টীলের আলমারি ও কাঠের আসবাবপত্রও। মাঝেমধ্যে বৈদ্যুতিক সরবরাহেও দেখা দেয় বিপর্যয়। যে কোনো সময় শর্ট সার্কিট হয়ে ঘটতে পারে অগ্নিকাণ্ডও।’

সুপারিন্টেনডেন্ট মাওলানা মাহবুবুর রহমান আরো বলেন, ‘মাদরাসা ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে পরিচালনা কমিটির সভায় রেজুলেশন করে ঝালকাঠি-০১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের এমপি বজলুল হক হারুন মহোদয়কে অবহিত করা হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়।’

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মোস্তফা আলম বলেন, ‘আমি কয়েকদিন আগে এ উপজেলায় যোগদান করেছি। ওই মাদরাসা সম্পর্কে আমার জানাশোনা নেই। মাদরাসার প্রধান আবেদন করলে আমি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে পারবো।’


আরো সংবাদ


premium cement