২২ মে ২০২২
`

চট্টগ্রামে করোনায় নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক


চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আবারো সহস্রাধিক শনাক্ত হয়েছে। জেলায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৬ জনের নমুনায় ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। আক্রান্তের হার ৩৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তবে এ সময়ে শহর ও গ্রামে করোনায় আক্রান্ত কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জেলার করোনা সংক্রান্ত হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে আজ রোববার পাঠানো রিপোর্টে এসব তথ্য জানা।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রিপোর্টে বলা হয়, ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিআইডি ও নগরীর আটটি ল্যাবে গতকাল শনিবার ২ হাজার ৬৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নতুন শনাক্তদের মধ্যে রয়েছে শহরের বাসিন্দা ৮২২ জন ও ১৪ উপজেলার ২০৪ জন। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ আনোয়ারায় ৩০ জন, রাউজানে ২৭ জন, হাটহাজারীতে ১৯ জন, বোয়ালখালীতে ১৭ জন, মিরসরাই ও সাতকানিয়ায় ১৫ জন করে, সীতাকুণ্ডে ১৪ জন, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে ১৩ জন করে, লোহাগাড়া ও পটিয়ায় ১১ জন করে, চন্দনাইশে ৮ জন, বাঁশখালীতে ৭ জন এবং সন্দ্বীপে ৪ জন। কর্ণফুলী উপজেলায় গতকালও কোনো রোগি শনাক্ত হয়নি। জেলায় করোনাভাইরাসে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা এখন ১ লাখ ১১ হাজার ১২৩ জন। এদের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৮১ হাজার ১৮৪ জন ও গ্রামের ২৯ হাজার ৯৩৯ জন। গতকাল করোনায় শহর ও গ্রামে কোনো রোগির মৃত্যু হয়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৩ জনই রয়েছে। এতে শহরের বাসিন্দা ৭২৮ জন ও গ্রামের ৬১৫ জন।

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে গতকাল সবচেয়ে বেশি ৭৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এখানে শহরের ২২৯ জন ও গ্রামের ১৪ জন পজিটিভ পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (চমেকহা) ল্যাবে ৩২২ জনের নমুনার মধ্যে শহরের ১২৯ ও গ্রামের ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হন। নগরীর বিশেষায়িত কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্র আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএল-এ পরীক্ষিত ৪০ টি নমুনায় শহরের ২৬ ও গ্রামের একটির রেজাল্ট পজিটিভ আসে।

বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির মধ্যে শেভরনে ৪৭৩ টি নমুনা পরীক্ষা করে শহরের ৬৬ ও গ্রামের ৫৮ টি আক্রান্ত পাওয়া যায়। ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ২৮৩ জনের নমুনায় শহরের ৫৭ ও গ্রামের ৩০ জনের দেহে করোনার জীবাণু মিলে। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ২৭৭ টি নমুনায় শহরের ৩০ ও গ্রামের ৫৬ টিতে ভাইরাসের উপস্থিতি চিহ্নিত হয়। মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ৩৫ টি নমুনার মধ্যে শহরের ১২ ও গ্রামের ৫ টিতে জীবাণু থাকার প্রমাণ মিলে। এপিক হেলথ কেয়ারে ৪৮১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে শহরের ২৬৯ ও গ্রামের ২১ জন আক্রান্ত পাওয়া যায়। ল্যাব এইডে ৭ টি নমুনার ৪ টি ভাইরাসবাহক শনাক্ত হয়।

এদিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু), মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ল্যাবে কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি। চট্টগ্রামের একটি নমুনাও কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে পাঠানোর প্রয়োজন পড়েনি। নমুনা সংগ্রহের কোনো কেন্দ্রে কারো এন্টিজেন টেস্ট করা হয়নি।

ল্যাবভিত্তিক গতকালের রিপোর্ট পর্যবেক্ষণে সংক্রমণ হার পাওয়া যায়, বিআইটিআইডি’তে ৩২ দশমিক ৯৭ শতাংশ, চমেকহা’য় ৪৫ দশমিক ০৩, আরটিআরএলে ৬৭ দশমিক ৫০, শেভরনে ২৬ দশমিক ২১, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৩০ দশমিক ৭৪, মা ও শিশু হাসপাতালে ৩১ দশমিক ০৪, মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতালে ৪৮ দশমিক ৫৭, এপিক হেলথ কেয়ারে ৬০ দশমিক ২৯ এবং ল্যাব এইডে ৫৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।


আরো সংবাদ


premium cement