২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
`
আরো ২ শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ


টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। পাহাড়ি ঢলে আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত খবর নিয়ে জানা গেছে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এখনো পানিবনন্দি রয়েছে অন্তত চার লাখ মানুষ।

উখিয়া, চকরিয়া ও পাশ্ববর্তী উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে পৃথকভাবে দুই শিশুসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। গত সোমবার থেকে টানা বৃষ্টির কার‌ণে পাহাড়ী ঢলের সৃষ্ট বন্যায় এ নিহ‌তের ঘটনা ঘ‌টে‌ছে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে চকরিয়া পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মারুফ নামের এক শিশু মারা গেছে। গত ২৯ জুলাই বৃহস্প‌তিবার বালুখালী খাল থে‌কে এক এবং তুমব্রু খাল থেকে এক রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হ‌য়ে‌ছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার লা‌গোয়া ঘুমধুম ইউনিয়নের ঘোনার পাড়া নামক স্থানে খালের পাড়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায় লাশটি। অপর লাশটি কুতুপালং ক্যাম্প ৪ ব্লক-বি/২৩, এফসিএন মৃত ওলামিয়ার ছেলে সোনামিয়ার (২৯) ব‌লে জানা গে‌ছে।

এই বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন।

তি‌নি জানান, টানা বৃষ্টিপাতের পাহাড়ী ঢলের পানিতে ভেসে প্রাণ হারায়। অপরদিকে (৩০ জুলাই) শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়ার বালুখালী-তেলীপাড়া খালে একটি ভাসমান লাশ উদ্ধার করে। সনা‌ক্তের পর লাশ ক্যাম্পে নিয়ে গেছে রোহিঙ্গারা। লাশটি ক্যাম্প-ডি-৫-এর এক রোহিঙ্গার বলে তারা জানান।

এ নিয়ে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে রোহিঙ্গাসহ ২৭ জনের।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ঘুনিয়ার কাছে মাতামুহুরি নদীর বিশাল বেরিবাধ ভেংগে গিয়ে বন্যার পনিতে প্লাবিত হয়েছে আশেপাশের এলাকা। এছাড়াও মাতামুহুরি নদীর আরো তিনটি পয়েন্টে বেরিবাধের ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। চকরিয়া উপজেলার সরকারি খাদ্য গোদাম গত দু’দিন ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ঈদগাও এবং রামু উপজেলার বিশাল এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

জেলার প্রধান নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রামু ঈদগড় রোডের পানের ছরা ঢালার কাছে সড়কের বিরাট অংশ ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানায়, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের ৫২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৭৬ হাজার ৫০০ পরিবারের চার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার ৭১ ইউনিয়ন ও চার পৌরসভার মধ্যে ৫১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ৩২ কোটি টাকা। প্লাবিত এসব এলাকায় ৩৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশীদ জানান, প্লাবিত এলাকার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিশেষ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০০ মেট্টিক টন চাল দু’হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ১৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজনের আরো জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হবে।



আরো সংবাদ