১৬ জুন ২০২১
`

দেবিদ্বারে ভুল অপারেশনে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ, ১ মাস পর লাশ উত্তোলন

দেবিদ্বারে ভুল অপারেশনে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ, ১ মাস পর লাশ উত্তোলন - ছবি- সংগৃহীত

চিকিৎসকের ‘ভুল অপারেশনে’ কুমিল্লার দেবিদ্বারের মৃত শারমিন আক্তার (২৫) নামে আলোচিত প্রসূতির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য এক মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

বুধবার সকালে জেলার মুরাদনগরের মুগসাইর গ্রামে স্বামীর বাড়ির কবর থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: সাইফুল ইসলাম কমলের উপস্থিতিতে পুলিশ লাশ উত্তোলন করে। পরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবিদ্বার থানার এসআই মো: ইকতার মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

দেবিদ্বার থানার এসআই ইকতার হোসেন আরো জানান, ওই গৃহবধূর মৃত্যুর পর তার পরিবার থানায় অভিযোগ দাখিল করে লাশ থানায় হস্তান্তর না করেই তড়িঘড়ি তার স্বামীর বাড়িতে দাফন করে ফেলে। তাই মামলার তদন্তের স্বার্থে পরে আদালত উত্তোলনের আদেশ দিলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই ওই প্রসূতির মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

এ দিকে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের সময় মামলার বাদী ও শারমিনের বাবা মোবারক হোসেন ও স্বামী রাসেল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত বছরের ৫ নভেম্বর মুরাদনগর উপজেলার মোগসাইর গ্রামের রাসেল মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তারকে দেবিদ্বার আল ইসলাম হসপিটালে সিজিরিয়ান অপারেশন করেন ওই হাসপাতালের খণ্ডকালীন চিকিৎসক রোজিনা আক্তার ও তার সহযোগী ডা: শামীমা আক্তার লিন্টাসহ অন্যরা। জন্ম হয় এক ছেলে সন্তান। এর চার দিন পর ৯ নভেম্বর প্রসূতিকে নবজাতকসহ হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়।

শারমিনের বড় ভাই রহুল আমিন জানান, ওই প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে বোনকে বাড়ি আনার পর ব্যথা আরো বেড়ে গেলে তাকে কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রচুর ওষুধ খেতে দেন। কোথাও প্রকৃত রোগ নির্ণয় হয়নি। কিন্তু তার জীবন সঙ্কটাপন্ন দেখে গত ৬ এপ্রিল জেলার ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে তার অপারেশন করে পেট থেকে গজ বের করা হয়। কিন্তু সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১০ এপ্রিল ভোরে তাকে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করে রাখা হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পর দিন অপারেশনকারী সার্জন ও দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: রোজিনা আক্তার, ওই প্রাইভেট হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: শামীমা আক্তার লিন্টা, এনেসথেসিয়া ডা: মেহেদুল হাসান পারভেজ, হাসপাতালের চেয়ারম্যান নজির আহমেদ ও গ্রাম্য চিকিৎসক সফিকুর রহমানকে অভিযুক্ত করে প্রসূতির বাবা মোবারক হোসেন দেবিদ্বার থানায় এ মামলা দায়ের করেন।



আরো সংবাদ