২২ জুন ২০২১
`

চাঁদপুরে বাড়িতে ডেকে অশ্লীল ভিডিও ধারণ, নারীসহ আটক ৬

চাঁদপুরে বাড়িতে ডেকে অশ্লীল ভিডিও ধারণ - ছবি নয়া দিগন্ত

চাঁদপুরে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে অশ্নীল ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিত একটি চক্রের সদস্যরা। এরপর ওই ব্যক্তিদের থেকে চাঁদা দাবি করা হতো। এমন অভিযোগ পেয়ে চক্রের চার নারী সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার শহরের স্টেডিয়াম এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতারর করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন চাঁদপুর শহরের ট্রাকঘাট এলাকার শিহান পাটওয়ারীর স্ত্রী তাসলিম আক্তার জেরিন (২০), চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বাঙ্গালখালিয়া এলাকার সাদিয়া বেগম (২৭), চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সকদি রামপুরের মিন্টু বেপারীর স্ত্রী হাসিনা বেগম মুন্নি (৩৫), একই উপজেলার শোভান গ্রামের মোস্তফা (৪৫), উত্তর গোবিন্দপুর ইউনিয়নের প্রত্যাশী গ্রামের কাজল খান (২২) এবং হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের শিংগাইর গ্রামের আয়েশা আক্তার নিপা (১৯)।

পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘ দিন থেকে লোকজনকে কৌশলে বাসায় ডেকে নিয়ে অশ্নীল ছবি ধারণ করে হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করে আসছিল। অনেকেই সম্মানের ভয়ে মুখ খোলেন নি। তবে এ ঘটনার শিকার শহরের ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

পুলিশ আরো জানান, মাইনুল ইসলামের দোকানের পাশে অভিযুক্ত মোস্তফার হার্ডওয়্যারের দোকান থাকায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সাথে মনোমালিন্য হয়। ৭ মে সকাল ১০টার দিকে চাঁদপুর পৌরসভার সেবা সিটি সেন্টারে এসির কাজ করছিলেন মাইনুল। এ সময় তার মোবাইল নম্বরে একটি কল আসে। জেরিন নামে এক নারী জানান, তার বাসার ফ্রিজটি নষ্ট হয়ে আছে। সেটি মেরামত করে দিতে হবে। এরপর দুপুরে জেরিন ও সাদিয়া বেগম শহরের সেবা সিটি সেন্টারের সামনে গিয়ে মাইনুলকে শহরের আলিমপাড়ার ড্রিম হাউসের তৃতীয় তলায় হাসিনা বেগমের বাসায় নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ তাকে বসিয়ে রাখার পর দুপুর দেড়টার দিকে ওই তিন নারী মাইনুলকে পানি পান করার জন্য বারবার বলতে থাকে। তবে তিনি রোজা থাকার কারণে পানি পান করেন নি। একপর্যায়ে কাজল খান, নিপাসহ চারজন ওই বাসায় ঢুকে তার শার্ট ও কোমরের বেল্ট খুলে ভিডিও ধারণ করে। পরে তাসলিম আক্তার জেরিন বলে, মাইনুল ইসলাম তার সাথে ‘খারাপ কাজ’ করেছে। সে জন্য তাকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে। না হলে ধারণকৃত ভিডিও তার স্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেবে। একপর্যায়ে তাকে মারধরও করা হয়। পরে মাইনুল বাধ্য হয়ে সাথে থাকা ১০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পান।

চাঁদপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুর রশীদ বলেন, তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমাদের কাছে আগেও সংবাদ ছিল। কিন্তু অনেকে লোকলজ্জার ভয়ে কোনো অভিযোগ করতেন না। সোমবার ওই ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে আমরা মামলা নিয়ে তাদের গ্রেফতার করি। এ ঘটনায় একজন পলাতক রয়েছেন।



আরো সংবাদ