১২ এপ্রিল ২০২১
`

কাদের মির্জার উপস্থিতিতে হামলার শিকার আ’লীগ সভাপতিকে ঢাকা প্রেরণ

কাদের মির্জার উপস্থিতিতে হামলার শিকার আ’লীগ সভাপতিকে ঢাকা প্রেরণ - ছবি : নয়া দিগন্ত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জার উপস্থিতিতে মারধরের শিকার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খাঁনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন খিজির হায়াত গ্রুপের অন্যতম নেতা ও কাদের মির্জার ভাগনে ফখরুল ইসলাম রাহাত।

তিনি আরো জানান, হামলায় আহত খিজির হায়াত খাঁন প্রথমে কোম্পানীগঞ্জের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খাঁন অভিযোগ করে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পাশের একটি কক্ষে নতুন করে কার্যালয় করার জন্য মিস্ত্রী নিয়ে তিনি ওই স্থানে ছিলেন। ওই সময় মেয়র কাদের মির্জার নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী অফিসে এসে এখানে অফিস করা যাবে না বলে বাধা দিয়ে প্রথমে কলার ধরে আমাকে লাঞ্চিত করেন। একপর্যায়ে কাদের মির্জার সাথে থাকা তার শতাধিক সমর্থক কলার ধরে রাস্তার নিয়ে এসে লাথি, কিল, ঘুষি মেরে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় কাদের মির্জা আমাকে ধরে রাখেন। আমি থানা পুলিশকে জানালেও তারা আমাকে কোনো সহযোগিতা করেনি।

এদিকে হামলার প্রতিবাদে রাতে বসুরহাট জিরো পয়েন্টের বঙ্গবন্ধু চত্বরে কাদের মির্জার মঞ্চ, চেয়ার ভাংচুর ও রুপালি চত্বর এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় খিজির হায়াত খানঁ ও মিজানুর রহমান বাদল সমর্থকরা। অপরদিকে এ ঘটনার পর পর বসুরহাট বাজারে কাদের মির্জা সমর্থকরা মিছিল বের করেন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত দুপক্ষ পুলিশ ব্যারিকেডের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানে ছিল।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থল পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। খিজির হায়াত খাঁন লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে।

এদিকে, কাদের মির্জা রাতে তার ফেসবুক একাউন্ট থেকে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পৌরসভা চত্বরে সংবাদ সম্মেলন এবং সকাল ১১টায় ব্যবসায়ীদের সাথে মত বিনিময় সভার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি ফেসবুকে উল্লেখ করেন, আপনারা দেখেছেন অস্ত্রধারীরা বসুর হাট বাজারে এসে কী ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে। আমার ব্যাক্তিগত অফিস ও মুজিব শতবর্ষ উৎসবের মঞ্চ ভাংচুর করেছে। বসুর হাট বাজারে বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ করেছে। এ সময় তিনি সাংবাদিক এবং ব্যবসায়ীদের মত বিনিময় সভায় যোগদানের আহ্বান জানান।

অপরদিকে, কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ খিজির হায়াত খাঁনের সমর্থক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় বসুরহাট রুপালী চত্বরে প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ডেপুটি কমান্ডার, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বয়োবৃদ্ধ সভাপতি খিজির হায়াত খাঁনের ওপর মির্জা নিজ হাতে ও তার গুণ্ডা বাহিনীসহ অমানবিক নির্যাতন করেছে। তিনি ওই সভায় মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সবাইকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেন।



আরো সংবাদ