১৮ এপ্রিল ২০২১
`

নোয়াখালী আ’লীগকে নিয়ে একটা চক্রান্ত চলছে : একরাম

নোয়াখালী আ’লীগকে নিয়ে একটা চক্রান্ত চলছে : একরাম - ছবি : নয়া দিগন্ত

নোয়াখালীর-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী দাবি করেছেন নোয়াখালী আওয়ামী লীগ নিয়ে একটি চক্রান্ত চলছে।

তিনি শনিবার বিকেল ৪টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল ৭ মার্চ। অগ্নিঝরা বক্তব্যের কারণে আজকের বাংলাদেশ। এটির ওপর শহর আওয়ামী লীগ একটি প্রোগ্রাম করতে যাচ্ছে (জনসভা) নোয়াখালী সোনাপুর কলেজের মাঠে। যারা মুজিবপ্রেমী শেখ হাসিনার সৈনিক। আমি সকলকে অনুরোধ করবো আপনারা যেখানে থাকেন, আপনারা যদি আপনারদের এমপি ভালোবাসেন, শেখ হাসিনাকে ভালোবাসেন, রোববার বিকেল ৩টার প্রোগ্রামে ছুটে আসবেন। নোয়াখালী আওয়ামী লীগকে নিয়ে একটি চক্রান্ত চলছে। আমরা একটু বুঝিয়ে দিতে চাই। আমরা নোয়াখালী আওয়ামী লীগ একে-অভিন্ন। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই।’

একরামুল করিম চৌধুরী আরো বলেন, কোনো ব্যক্তি বিশেষের জন্য আওয়ামী লীগ নয়। কোনো ব্যক্তি বিশেষকে লাইভে কিছু বললেই আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এটি সেই আওয়ামী লীগ নয়। নোয়াখালী আওয়ামী লীগ ‘ভেরি স্ট্রং’ আওয়ামী লীগ। জনসভায় এসে বঙ্গবন্ধুর আওয়াজ শুনবেন। বঙ্গবন্ধু কি বলতে চেয়েছিলো। এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। এই বক্তৃতায় মধ্যে কী এমন জাদু ছিলো, যে জাদুতে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং নোয়াখালী পৌর মেয়র শহীদুল্লাহ খাঁন সোহেল দু’জনই ছিলেন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। ফলে উভয়ের সমর্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সম্মেলনের দিন উভয়ে সংঘর্ষে জড়িতে পড়ে। এতে দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে ৯৪ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভাংচুর করা হয় সম্মেলনের চেয়ার। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সম্মেলনে খায়রুল আনম সেলিম সভাপতি ও একরামুল করিম চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। তখন থেকে দুটি গ্রুপ নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন একরামুল করিম চৌধুরী অন্যটির শহীদুল্লাহ খাঁন সোহেল।

এ দিকে জেলা কমিটিতে বির্তকিত ব্যক্তিদের স্থান দেয়ায় জেলা সহ-সভাপতি, বসুরহাট পৌর মেয়র, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ভাই আবদুল কাদের মির্জা তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবজি, অস্ত্রবাজি, চাকরি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ উপস্থাপন করে চলেছেন। গত বছর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি কেন্দ্রে জমা দেয়া হলেও তা এখনো অনুমোদন পায়নি। এতে অনেক ত্যাগী নেতার স্থান কমিটিতে হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।



আরো সংবাদ