১৭ এপ্রিল ২০২১
`

পঞ্চম দফায় ভাসানচর পৌঁছেছে আরো ১৭৫৯ জন রোহিঙ্গা

পঞ্চম দফায় ভাসানচর পৌঁছেছে আরো ১৭৫৯ জন রোহিঙ্গা - ছবি : নয়া দিগন্ত

রোহিঙ্গা স্থানান্তরের পঞ্চম ধাপের দ্বিতীয় পর্যায়ে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে পৌঁছেছে আরো এক হাজার ৭৫৯ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। তাদের মধ্যে ৪৪৫ জন পুরুষ, ৫১৬ জন নারী ও ৭৯৮ জন শিশু রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় নৌবাহিনীর পাঁচটি জাহাজ তাদের নিয়ে ভাসানচরে এসে পৌঁছায়। এসময় ঘাটে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বিসিজি আউটপোস্ট থেকে তাদের নিয়ে পাঁচটি জাহাজ ভাসানচরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়।

এর আগে দুই দফায় ৪০টি বাসে করে রোহিঙ্গারা সড়কপথে চট্টগ্রামের ট্রানজিট পয়েন্টে এসে পৌঁছান। রাতে তাদের নৌবাহিনীর হেফাজতে রাখা হয়।

এ নিয়ে ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়ালো প্রায় ১৪ হাজার ৩ জনে।

ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাহে আলম বলেন, ১ হাজার ৭৫৯ জন রোহিঙ্গাকে জাহাজ থেকে নামিয়ে প্রাথমিক মেডিক্যাল পরীক্ষা শেষে গাড়িতে করে ওয়্যারহাউজে সমবেত করে সেখানে তাদেরকে ভাসানচরে বসবাসের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়। ব্রিফ শেষে তাদের ভাসানচরের ক্লাস্টারে স্থানান্তর করা হয়।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগের ন্যায় আগত রোহিঙ্গাদের তিন দিন খাওয়ানো হবে। পরে তাদের রেশন দেয়া হবে।

বুধবার পঞ্চম ধাপে প্রথম পর্যায়ে ভাসানচরে ২ হাজার ২৫৭ জন রোহিঙ্গা পৌঁছে। এদের মধ্যে পুরুষ ৫৬৩, নারী ৬৬৫ এবং ১০২৯ জন শিশু ছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে আনুষ্ঠানিকভাবে নারী-পুরুষ-শিশুসহ নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে পৌঁছে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা।

গত ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় কক্সবাজার থেকে আরো ১ হাজার ৮০৪ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে পৌঁছায়। গত বছরের ৮ মে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের পানিসীমায় ভাসতে থাকা ২৭৭ রোহিঙ্গাদের আরো একটি দলকে ভাসান চরে স্থানান্তর করা হয়। কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগরে বোটে ভাসমান অবস্থা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

গত ২৯ জানুয়ারি তৃতীয় দফার প্রথম পর্যায়ে ভাসানচরে এসে পৌঁছায় এক হাজার ৭৭৬ জন রোহিঙ্গা। ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ১ হাজার ৪৬৭ জন রোহিঙ্গা এসে পৌঁছায়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো এক হাজার ১১ জন এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ দফায় প্রথম ধাপে ২ হাজার ১০ জন রোহিঙ্গা এসে পৌঁছায়। প্রথম থেকে চতুর্থ ধাপে সর্বমোট ৯ হাজার ৯৮৭ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ফলে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে আসে আরো কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি শরণার্থী ক্যাম্পে রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ লাখ। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের চাপ সামলাতে সরকার ১ লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচর স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়। সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য ২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল হাতিয়ায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা ভাসানচরে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ শেষ হয়। ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হওয়ার কথা থাকলেও আগেই শেষ হয় সকল অবকাঠামো নির্মাণ। হাতিয়া থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার দ্বীপের এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১২০টি গুচ্ছগ্রাম রয়েছে। এতে ১ লাখ রোহিঙ্গার বাসযোগ্য করা হয়েছে।



আরো সংবাদ