০৪ ডিসেম্বর ২০২০

নবীনগরে যুবদলের সভায় পুলিশের বাধা, আহত ২০

নবীনগরে যুবদলের সভায় পুলিশের বাধা, আহত ২০ - সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সভায় পুলিশের বাধা ও লাঠিচার্জে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় যুবদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ফাঁকা গুলি ও পুলিশের গাড়ি ভাংচুর হয়েছে বলে জানা যায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার আলীয়াবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক টিম প্রধান জাকির হোসেন সিদ্দিকী ও জেলা যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা, সহ-সভাপতি রাশেদুল হক রাশেদ, তাজুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদসহ অতন্ত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা যুবদল। হামলার প্রতিবাদে শনিবার বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ এনে নবীনগর থানার এসআই জসিম উদ্দিন এজাহারে ২৩ ও অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে শুক্রবার রাতে মামলা করেন। অপর দিকে পুলিশি হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি ও যুবদল।

জানা যায়, নবীনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মফিজুর রহমান মুকুলের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এবং উপজেলা যুবদলের এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ হোসেন রাজুর নেতৃত্বাধীন অপর গ্রুপ নবীনগর মহিলা কলেজে পৃথক দুটি সাংগঠনিক সভা আহ্বান করে। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে বৃহস্পতিবার রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় দু’গ্রুপকে একত্র করে সভা করার বিষয়ে আলোচনা করে। এ সময় পুলিশ তাদেরকে ওই স্থান থেকে সরিয়ে দেয়।

শুক্রবার সকালে সভায় যোগ দিতে কুমিল্লা অঞ্চলের সাংগঠনিক টিমের দায়িত্বে থাকা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ঢাকা থেকে একটি টিম নবীনগর পৌঁছায়। কিন্তু নবীনগর থানা পুলিশ শুক্রবার সভা করতে বাধা দেয়। পুলিশের বাধা পেয়ে যুবদলের বিভক্ত নেতাকর্মীরা দিনভর ঘরোয়া বৈঠক শেষে বিকেলে পৌর এলাকার আলীয়াবাদ গ্রামে বিএনপি নেতা মরহুম মোশারফ হোসেন মদন মেম্বারের বাড়িতে খাবার খেতে চলে আসেন। খাবার শেষে দু’গ্রুপের নেতাদের একত্রিত ডেকে আলোচনায় বসেন কেন্দ্রীয় নেতারা। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে লাঠিচার্জ শুরু করে।

মুর্হুতের মধ্যে সভায় অংশ নেয়া নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় নেতাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্ত দেখে উওেজিত হয়ে নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে বলে জানা গেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েন। ইটের আঘাতে রাস্তার উপর থাকা পুলিশের পিকআপ ভ্যানের গ্যাস ভেঙ্গে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে গোটা এলাকায়।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মফিজুর রহমান মুকুল বলেন, আমরা কোনো সভা করিনি। ঢাকা থেকে আসা কেন্দ্রীয় নেতাদের আপ্যায়নের জন্য আলীয়াবাদ গিয়েছিলাম। সেখানে একটি বাসার ভেতর পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদেরকে বেধড়ক পেটায়। এতে কেন্দ্রীয় নেতা জাকির হোসেন সিদ্দীকিসহ জেলা ও উপজেলার আমাদের কমপক্ষে ২০ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সাংগঠনিক সভা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশের বাধায় করতে পারিনি। বিকেলে আমাদের এক নেতার বাসায় খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ওই বাসায় বসে কারা কারা প্রার্থী তাদের তালিক তৈরি করার সময় পুলিশ এসে অতর্কিতভাবে হামলা করে।

নবীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমীন বলেন, দু’গ্রুপ আমাদের কাছে সভা করার অনুমতি চেয়ে ব্যর্থ হয়ে এক গ্রুপ আলীযাবাদ গ্রামে গিয়েছে সভা করতে, আরেক গ্রুপ গিয়েছে আক্রমণ করতে। এই সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর যুবদলের দু’গ্রুপের নেতাকর্মীরা মিলে পুলিশের উপর আক্রমণ করে এবং পুলিশের গাড়ি ভাংচুর ও ইট পাটকেলের আঘাতে আমাদের তিন সদস্য আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। এই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।


আরো সংবাদ

সৌদি আরবে ইমাম হোসাইন মসজিদটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ (১০৭২৭)অপশক্তি মোকাবেলা করে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে : মামুনুল হক (৯১৪৮)রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি পায়নি সম্মিলিত ইসলামী দলগুলো (৮৩৫৮)ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন কোনোক্রমে মেনে নেয়া যায় না : সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ (৫৯৯৭)স্টেডিয়ামগুলোকে জেলে রূপান্তরের অনুমতি না দেয়ায় কেজরিওয়ালের ওপর ক্ষুব্ধ মোদি (৫৬৯৯)দেশের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের নির্দেশ সেনাপ্রধানের (৫৪১৬)আওয়ামী লীগের আপত্তি, মামুনুল হকের মাহফিল বাতিল (৫২৩৭)কোনো মুসলিম হিন্দু নারীকে বিয়ে করতে পারে কিনা (৪৯৫৯)বাবার ডাকে বাড়ি ফিরে বড় ভাইয়ের হাতে খুন (৪৬০৮)পাঠ্যসূচিতে থাকলেও গুরুত্ব হারাচ্ছে ইসলাম শিক্ষা (৪০৩৯)