১৯ অক্টোবর ২০২০

ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী তরুণী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

-

প্রতিবন্ধী এক বৌদ্ধ তরুণী একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়ে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা দক্ষিণ শীলমুড়ি ইউনিয়নের লগ্নসার গ্রামে। গতকাল বুধবার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে তার অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জানা যায়। অভিযুক্ত ধর্ষক হলেন ইউনিয়নের লগ্নসার গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে ইমান হোসেন (৩০)। ধর্ষণ মামলা দায়েরের দু’দিন হলেও তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ। প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকের সহায়তায় গতকাল বিকালে কুমিল্লার ৭ নম্বর আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান ঊর্মী ওই তরুণীর জবানবন্দী রেকর্ড করেছেন।

জানা গেছে, জেলার বরুড়া উপজেলা দক্ষিণ শীলমুড়ি ইউনিয়নের লগ্নসার গ্রামের ইমান হোসেন দরিদ্র প্রতিবন্ধী তরুণীকে তার বাড়িতে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। গত শনিবার ইমান হোসেন একই কাজে লিপ্ত হলে নির্যাতিতার বাবা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ধরার চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যান। ঘটনাটি মিটমাটের জন্য ওই এলাকার খলিলুর রহমান মুন্সী, নয়ন, আবু তাহের, লিটন বড়ুয়া ও রতনসহ কয়েকজন নির্যাতিতার বাড়িতে সালিশ বসান। ওই সালিশে চল্লিশ হাজার টাকা দিবে বলে খলিলুর রহমান মুন্সী নির্যাতিতার বাবা থেকে তিন শ’ টাকার খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। কিন্তু টাকা না দিয়ে তারা স্ট্যাম্প নিয়ে চলে যান। গত সোমবার রাতে নির্যাতিতার বাবা বরুড়া থানায় ইমান হোসেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। রিপোর্টটি লিখা পর্যন্ত আসামি গ্রেফতার কিংবা স্বাক্ষরযুক্ত স্ট্যাম্পটিও উদ্ধার সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে বুধবার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে ডাক্তার জানিয়েছেন তিনি ৩১ সপ্তাহের (প্রায় ৮ মাস) অন্তঃসত্ত্বা।

বরুড়া থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা বুধবার সম্পন্ন হয়েছে। ভিকটিম ৩১ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

তিনি আরো বলেন, প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক নাজনীন আক্তারের সহায়তায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান ঊর্মীর আদালতে ভিকটিমের জবানবন্দী রেকর্ড করেছেন।


আরো সংবাদ