১২ আগস্ট ২০২০

নবীনগরে প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ

নবীনগরে প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ - ছবি : নয়া দিগন্ত
24tkt

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউপি সদস্যের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাতাভোগীরা ভাতার টাকা উত্তোলন করে অফিস থেকে বের হওয়ার পর ওই ইউনিয়নের নারী সদস্য ছালেহা বেগমের স্বামী ও শ্রীঘড় গ্রামের ময়না বেগম তাদের কাছ থেকে আট হাজার করে টাকা রেখে দেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কার্ড করে দেয়ার নামে নিয়েছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নে ১৫২ জন প্রতিবন্ধীকে সরকার প্রদত্ত প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর আওতায় আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার তালিকা অনুযায়ী ওইসব প্রতিবন্ধিকে নয় হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করা হয়।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২, ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য ছালেহা বেগমের স্বামী নাজির মিয়া ও শ্রীঘড় গ্রামের ময়না বেগম দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় এমন অনিয়ম করে যাচ্ছে, এলাকার নিরীহ মানুষকে কার্ড করে দেয়ার নামে প্রতিজনের কাছ থেকে নিয়েছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা। প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে রাতেই অনেকের আংশিক টাকা ফেরত দিয়ে গেছেন নাজির মিয়া ও ময়না বেগম।

নাছিরাবাদ গ্রামের জারু মিয়া জানান, নাজির মিয়া আমার দুই প্রতিবন্ধী ছেলের নামে কার্ড করে দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে কিন্তু এখনো কার্ড পাইনি, টাকাও পাইনি।

নাছিরাবাদ গ্রামের দাস পাড়ার বিজয় দাস বলেন, নাজির মিয়া আমার প্রতিবন্ধী কার্ড করে দিয়েছে, সেই কারণে তিনি আমার কাছ থেকে আট হাজার টাকা রেখে দিয়েছে, পরে রাতে ৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে গেছে।

অর্চনা রানী দাস বলেন, আমার প্রতিবন্ধী মেয়ে তৃপ্তির নামে একটি কার্ড করে দেন মহিলা মেম্বার ছালেহা বেগম, মঙ্গলবার নয় হাজার টাকা হাতে পাওয়ার পর ছালেহা বেগমের স্বামী নাজির মিয়া আমার কাছ থেকে সকল টাকা নিয়ে নেন। পরে বাড়িতে এসে দেড় হাজার টাকা দিয়ে গেছে। ওই দিন বিকেলে আমার মা মারা যান, সে কারণে আমি বাপের বাড়িতে চলে যায়, রাতে আমার মেয়ের কাছে আরো কিছু টাকা দিয়ে গেছে বলে জেনেছি।

সঞ্চিতা রানী দাস বলেন, আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের নয় হাজার টাকা নাজির মিয়া রেখে দিয়ে ছিলেন, আজ সকালে বাড়িতে এসে দিয়ে গেছে।

জোসনা রানী দাস বলেন, আমার পাগলী মেয়ের ভাতার টাকা ময়না বেগম রেখে দিয়ে ছিলেন, আজকে সকালে তার বাড়িতে গিয়ে আট হাজার টাকা ফেরত এনেছি।

এ বিষয়ে, অভিযুক্ত নাজির মিয়া বলেন, আমি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়নি। এ সময় ভুক্তভোগিরা তার সামনে এসে টাকা নেয়ার কথা জানালে, নাজির মিয়া ফোনে কথা বলার অযুহাতে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।

ময়না বেগম বলেন, আমি এলাকার ২০ থেকে ২৫ জন প্রতিবন্ধীর কার্ড করে দিয়েছি। ভাতার টাকা হাতে পেয়ে কয়েকজন খুশি হয়ে আমাকে ছয় হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন, কিন্তু এই টাকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে আমি তাদের টাকা ফেরত দিয়ে দেই।

শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: ধন মিয়া বলেন, দশ থেকে বারোজন আমার কাছে অভিযোগ করেছে, নাজির মিয়া তাদের কাছ থেকে আট হাজার করে টাকা রেখে দিয়েছেন। এই ঘটনায় আমার ইউনিয়নের বদনাম হয়েছে, সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবী করছি।

শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির হোসেন বাবুল বলেন, আমার জানামতে সকলের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার পারভেজ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সমাজ সেবা অফিস থেকে সেবা নিতে কোনো টাকা পয়সা লাগে না।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে একটি দালাল চক্র রয়েছে, ওই দালালরা প্রতিবন্ধী ও বয়স্কভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেকে হচ্ছে প্রতারিত। কার্ড করার সময় শর্ত থাকে, প্রথম কিস্তির টাকা তারা নিয়ে নেবে। ওই দালালদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি করছি। তারা আরো বলেন, এ ঘটনায় কোনো অবস্থাতেই স্থানীয় চেয়ারম্যান দায় এড়াতে পারেন না।


আরো সংবাদ

সকল