২৭ নভেম্বর ২০২০

হঠাৎ কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এলো বিপুল পরিমান বর্জ্য, অপসারণের কাজ শুরু

বর্জ্য অপসারণের কাজ চলছে - ছবি : নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসা বিপুল পরিমান বর্জ্য অপসারণ করা শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সাথে ১০টি পরিবেশবাদি সংগঠন ও স্থানীয় এলাকাবাসী এই অপসারণ শুরু করে। এর এই কার্যক্রমের সূচনা করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভেসে আসে প্লাস্টিক, ই-বর্জ্য ও ছেড়া জাল। বর্জ্যের সাথে কয়েক শত কাছিম ভেসে আসে। তবে সৈকতে জোয়ারের পানিতে কী করে এবং কেন এসব বর্জ্য এসেছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে সমুদ্রপৃষ্টে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ার কারণে সমুদ্রে জমে থাকা এসব বর্জ্য ভেসে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্ত কমিটি সদস্যরা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, হঠাৎ করে গত শনিবার সৈকতে ভেসে আসে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক, বোতল, রশি ও ছেড়া জালের বর্জ্য। পরবর্তী জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর, পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো মিলে এসব বর্জ্য অপসারণে উদ্যোগ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকাল থেকে সৈকতের নাজিরারটেক পয়েন্ট থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব বর্জ্য অপসারণ করা হয়। আর এই ঘটনা কী কারণে হয়েছে তা উদঘাটনেও কাজ করছে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। তারপরই জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা।

এদিকে বর্জ্যরে সাথে থাকা জালে পেঁচানো অবস্থায় কয়েক শত সামুদ্রিক কাছিমও ভেসে আসে সৈকতে। উৎসাহী মানুষ এসব বর্জ্যের মধ্যে মূল্যবান বা প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে। কয়েকটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা ভেসে এসে আটকে পড়া জীবিত চার শতাধিক কাছিম সাগরে ছেড়ে দেয়। আর শতাধিক মৃত কাছিম মাটিতে পুতে ফেলা হয়। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় গতকাল দুপুর থেকে এসব সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা বর্জ্য অপসারন শুরু করে। সৈকতের লাবনি, সুগন্ধা, কলাতলী ও দরিয়ানগর পয়েন্টে সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা বর্জ্য অপসারণ করে।

সমুদ্র সৈকতে বর্জ্য ভেসে আসার কারণ জানতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। সৈকতে জমে থাকা এসব বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। যেসব সেচ্ছাসেবী টিম পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে তাদেরকে জেলাপ্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে বলে জানান তদন্ত কমিটি সদস্য এ কর্মকর্তা।

গভীর সমুদ্রে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হয়ত সমুদ্রে জমে থাকা এসব বর্জ্য ভেসে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্ত কমিটি সদস্য এ কর্মকর্তা।

এদিকে সৈকতে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ৪০টির অধিক কচ্ছপের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও সাগরের পানিতে অবমুক্ত করা হয়েছে ১১৬টির মতো আঘাতপ্রাপ্ত কচ্ছপকে।

সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আছাদুজ্জামান সায়েম বলেন, মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সৈকতের দরিয়ানগর থেকে পয়েন্ট থেকে প্যারাসেলিং পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচটি মৃত কাছিম ভেসে আসে। পরবর্তীতে প্রশাসনকে অবহিত করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিদুয়ান হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশারফসহ আমরা কয়েকজন মিলে সেগুলো বালিয়াড়িতে পুতে ফেলেন। আরেক বিরল প্রজাতির কাছিম পাওয়া গিয়েছে, তা স্পিড বোট যোগে গভীর সাগরে গিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, ‘গত শনিবার থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য, বোতল, ছেঁড়া জাল ও রশি কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসছে। যা সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে শুরু করে সুগন্ধা, কলাতলী, দরিয়ানগর ও হিমছড়ি পর্যন্ত। পরবর্তী এটি ইনানী সৈকত পর্যন্ত এসব বর্জ্য ভেসে এসেছে। এটি পরিবেশ অধিদফতর শনিবার থেকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পর্যন্ত মনিটরিং করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে; ভেসে আসা বর্জ্য প্রায় ৫০ টনের অধিক হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০টি কাছিম মারা গেছে। যা পরিবেশ অধিদফতরসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজন মাটিতে পুতে ফেলেছে। এছাড়াও আহত অবস্থায় শতাধিকের বেশি কাছিম সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে।’

অপরদিকে চট্টগ্রাম বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কক্সবাজারস্থ সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাগরে বর্জ্য ভেসে আসার ঘটনায় কাছিমের মৃত্যু হচ্ছে। তাই আমি সহ তিন সদস্যের একটি টিম রোববার কক্সবাজার সৈকতে যায়। সেখানে প্রায় ৩০টি মৃত কাছিমের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হয় এবং শতাধিকের বেশি কাছিমকে সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া দুটি কাছিম চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।


আরো সংবাদ