২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫
`

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ভিড়, মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড়, মানছে না স্বাস্থ্যবিধি - নয়া দিগন্ত

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে সময়ের ব্যবধানে ঝুঁকি বাড়ছে। সোমবার লঞ্চঘাটে যাত্রীদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যাত্রীসংখ্যা। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না কেউ।

যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। করোনাভাইরাস সংক্রমরোধে যাত্রীদেরকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রার করার আহ্বান জানালেও তা মানছেন না তারা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরিমিত যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ঘাট থেকে ছেড়ে যায়। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। বেলা ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এমভি রফ রফ-৭ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। কোনোভাবেই যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

সকালে যাত্রী নিরাপত্তায় জীবাণুনাশক স্প্রে করা হলেও, পরবর্তীতে ঘাটে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় করোনাভাইরাস রোধে কোনো ধরনের জীবাণুনাশক ঔষধ স্প্রে বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

চাঁদপুর লঞ্চঘাটের ঘাট সুপারভাইজার আলী আজগর বলেন, আমরা নিয়ম মেনে যাত্রীদের লঞ্চে উঠাচ্ছি। কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। অনেক সময় যাত্রীদের চাপ বেড়ে গেলে, যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরিমিত যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ঘাট থেকে ছেড়ে যাচ্ছে।

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নবনিযুক্ত বিআইডব্লিউটি-চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আবুল বাশার মজুমদার বলেন, যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে লঞ্চে উঠছেন। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ঘাটে প্রচুর পরিমাণে যাত্রী থাকায় আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাদেরকে কোনো অবস্থাতেই কথা শোনানো যাচ্ছে না।

চাঁদপুর নৌ-থানার ওসি মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি অনেকটা খারাপ হয়ে যায়। তবুও আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের পরিবহনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

চাঁদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা এই লঞ্চঘাট ব্যবহার করে রাজধানী ঢাকায় যাত্রা করায় ভিড় কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝুঁকি জেনেও যাত্রীরা তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে। চাঁদপুর থেকে দেশের অন্তত ২০টি রুটে অর্ধশত যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে।

এদিকে চাঁদপুর থেকে বাস চলাচলও শুরু হয়েছে। সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট, কুমিল্লা, লক্ষীপুর রায়পুর, রামগঞ্জ বাস চলাচল শুরু হয়েছে।

বাস মালিক কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী বাসে উঠালেও যাত্রীদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে ডাবল ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে সকাল থেকে সেখানে কোনো সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীকে দেখা যায়নি।


আরো সংবাদ



premium cement