২৬ মে ২০২০

হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছেরা : রেণু বিক্রি নিয়ে সংশয়

হালদায় মাছের ডিম সংগ্রহ। - ফাইল ছবি

রুই জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ উপযোগী দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছেরা (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) ডিম ছেড়েছে।

গত ৪ এপ্রিল ২০২০ দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত হালদায় মা মাছের ডিম ছাড়ার ড. আজাদীর দেয়া সম্ভাব্য তারিখের পুর্বাভাস সঠিকভাবে মিলে গেছে।

এবার মা মাছের ডিম ছাড়ার পরিমান গতবারের তুলনায় বেশি হলেও করোনা লকডাউনের কারণে রেণুর পর্যাপ্ত ক্রেতা না পাওয়ার সংশয়ে ডিম সংগ্রহকারীরা কিছুটা হতাশ।

গত চার দশকের ধরে হালদা নদীর প্রাণবৈচিত্র্য এবং নদীর গতিপ্রকৃতি নিয়ে গবেষণারত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী নয়া দিগন্তকে বলেন, বহু প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মা মাছ হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে। আজিমের ঘাট এলাকায় বেশ কিছু নৌকা নিয়ে সংগ্রহকারী নমুনা ডিম পায়।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কিছুটা বৃষ্টিপাত হওয়ার পাশাপাশি আকাশ মেঘলা থাকায় হালদায় পানির ঢল না নামলেও তাপমাত্রা কম থাকায় পানির গুণগত মান পরিবর্তন হয় এবং জোয়ার-ভাটার স্রোতের পর্যাপ্ততায় অনুকূল পরিবেশ পেয়ে গত দুই মাস ধরে ডিম ছাড়তে উম্মুখ মা মাছেরা বৃহস্পতিবার রাতে নমুনা ডিম ছাড়া শুরু করে। দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা ডিম সংগ্রহকারীরা অনেকেই রাতেই নমুনা ডিম সংগ্রহ করতে নেমে পড়েন। শুক্রবার সকাল থেকে প্রায় আড়াই শ’ নৌকা ডিম সংগ্রহে নামে। উজানে গড়দুয়ারা নতুনখালের মুখ থেকে ভাটির দিকে বারিঘোনা পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বেলা প্রায় দেড়টা পর্যন্ত চলে নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের উৎসব।

নৌকাপ্রতি ৫-৬ বালতি ডিম সংগ্রহ হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় শাহ মাদারী হ্যাচারির অধীনে ডিম সংগ্রহকারী রামদাশহাটের ইলিয়াস জানিয়েছেন, তিনি দু’টি নৌকা নিয়ে ৬০ কেজির মতো ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তার সংগৃহীত ডিম থেকে দেড় কেজির মতো রেণু হতে পারে। শাহ মাদারী হ্যাচারির সংগ্রহকারীরা এক হাজার ৫০ কেজি ডিম সংগ্রহ করতে পারার কথাও তিনি জানান।

প্রফেসর আজাদী নয়া দিগন্তকে জানান, এবার ভালো পরিমাণেই ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন সংগ্রহকারীরা। তিনি জানান, এবার ১২ হাজার কেজির মতো ডিম সংগ্রহ হয়েছে এবং সংগৃহীত ডিম থেকে এবার সর্বসাকুল্যে ৩০০-৩৫০ কেজি রেণু উৎপাদন হতে পারে বলে তিনি জানান।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী ২৬ মে থেকে হালদা পাড়ে রেণু বিক্রয় শুরু হবে জানিয়ে এই প্রাণীবিজ্ঞানী বলেন, ডিম পরিপূর্ণতার সাইকেল হিসেবে যথাসময়ে এপ্রিল এবং মে মাসে লাগাতার পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলেও হালকা বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি আকাশ মেঘলা থাকায় পানির তাপমাত্রা কমে যায় (২৭-২৯ ডিগ্রী সে.সি.)। তাছাড়া স্রোতের দ্রুত-গতি সৃষ্টি হয়ে পানির অন্যান্য ভৌত-রাসায়নিক গুণাগুণেরও পরিবর্তন হওয়ায় মা-মাছ এবার পর্যাপ্ত ডিম ছাড়ে। ড. আজাদী বলেন, পূর্ণিমা অমাবশ্যার তিথিতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলেও এবং নদীতে ঢল না নামলেও জোয়ার-ভাটায় পর্যাপ্ত স্রোত সৃষ্টির পাশাপাশি পানির তাপমাত্রা কমলে (২৭-২৯ ০ সে:) মা মাছেরা যে প্রচুর পরিমাণ (লার্জ স্কেল) ডিম ছাড়তে পারে তা এবার প্রমাণ হলো।

তিনি জানান, ঈদের পরে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত লকডাউন পরিস্থিতি থাকায় এবার পর্যাপ্ত রেণু বিক্রি হওয়া নিয়ে হ্যাচারি মালিকরা সংশয়ে রয়েছেন। তাছাড়া হ্যাচারি ফুটানো রেণু ২/৩ দিন পর থেকে মারা যেতে থাকে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল ২০২০ দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এপ্রিল এবং মে মাসে প্রফেসর আজাদীর দেয়া মোট চারটি সময়ের মধ্যে মে মাসের ২১-২৬ তারিখ এর মধ্যে ডিম ছাড়ার পূর্বাভাস সঠিকভাবে মিলে গেছে। অর্থাৎ ২১ মে দিবাগত রাতে ডিম ছেড়েছে এবং ২২ মে দিনেও ডিম সংগ্রহ হয়েছে।


আরো সংবাদ