৩০ মে ২০২০

‘করোনা’র দুর্যোগ মোকাবেলায় মানিকছড়িতে ত্রাণ ও শুকনা খাবার বিতরণ শুরু

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি ‘করোনা ভাইরাস’ প্রতিরোধে দেশব্যাপী অঘোষিত ‘লকডাউন’ চলছে। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ বন্ধসহ জনগণ বাসাবাড়িতে অনেকটা গৃহবন্ধী রয়েছে। এ অবস্থায় জনভোগান্তির কথা চিন্তা করে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রাণালয় দরিদ্র জনগোষ্টির মাঝে ত্রাণ ও শুকনা খাবার বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে ২৯ মার্চ দুপুরে মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন তৃণমূলে দরিদ্র পরিবারে ত্রাণ ও শুকনা খাবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া পুলিশও নিজ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শুকনা খাবার ও চাল বিতরণ করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার দেশব্যাপী অঘোষিত ‘লকডাউন’ জনসমাগম এড়াতে প্রশাসনিক কড়াকড়ি থাকায় জনপদে লোকজন অনেকটা গৃহবন্ধি অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। এমতাবস্থায় জনপদে খাবার সঙ্কটের আশঙ্কায় ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয় ত্রাণ ও শুকনা খাবার বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে ২৯ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: কামাল উদ্দিন উপজেলার তৃণমুলে গিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে(প্রতি ওয়ার্ডে ২৫/২৬ পরিবার) ১০ কেজি চাউল, পাঁচ শ’ গ্রাম ডাল, পাঁচ শ’ গ্রাম তৈল, পাঁচ শ’ গ্রাম লবণ, ১টি সাবান, ১ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ বিতরণ শুরু করেছেন। প্রথমে উপজেলা ১নং মানিকছড়ি ইউপি’র ১ ও ২নং ওয়ার্ডের ৫০ পরিবারের মাঝে কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো: জয়নাল আবেদীন, ইউএনও তামান্না মাহমুদ, পিআইও মো: কামাল উদ্দিন।

এছাড়া এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সদর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মো: আবুল কালাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রফিকুল ইসলাম, যুবলীগ সভাপতি মো: সামায়উন ফরাজী সামু, ইউপি সদস্য মো. মোশারফ হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক চহ্লাপ্রু মারমা নিলয় প্রমুখ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত ঘরের বাইরে চলাফেরায় প্রশাসনিক বিধিনিষেধ থাকায় জনপদে যাতে খাদ্য সঙ্কট না হয় সেকারণে সরকার দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ ও শুকনা খাবার বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আপাদত প্রতি পরিবার ১০ কেজি চাউল, পাঁচ শ’ গ্রাম ডাল, পাঁচ শ’ গ্রাম তৈল, পাঁচ শ’ গ্রাম লবণ, ১টি সাবান, ১ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ হারে মোট ১ হাজার পরিবারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

এদিকে মানিকছড়ি থানার উদ্যোগে উপজেলা যোগ্যাছোলা ও তিনটহরী এলাকায় ৩ কেজি চাউল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবণ, ১টি সাবান, ১টি মাক্স বিতরণ উদ্বোধন করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন।

অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন জানান, উপজেলার কিছু সংখ্যক অসহায় পরিবারের মাঝে পুলিশের পক্ষ থেকে এভাবে ত্রাণ ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হবে।


আরো সংবাদ