০৬ জুন ২০২০

করোনার প্রভাব : মিরসরাইয়ে ক্ষতির মুখে ৯শ’ খামারি

করোনার প্রভাব : মিরসরাইয়ে ক্ষতির মুখে ৯শ’ খামারি - ছবি : সংগৃহিত

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিপর্যস্ত সারাবিশ্ব। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। এ মহামারির প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়েও। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে ৯শ’ পোলট্রি খামারি, ১শ’ ডেইরি খামারি ও ৫শ’ মৎস্য চাষি। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার খামারির ক্ষতি হবে প্রায় ৫শ’ কোটি টাকা।

মহামারি করোনাভাইসের প্রভাবে সারাদেশের মতো লকডাউন চলছে। মানুষ বাইরে বের না হয়ে ঘরেই অবস্থান করছেন। এতে করে জনমানব শুন্য রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার। এজন্য দোকানপাট বন্ধ থাকায় পচনশীল পণ্য সংরক্ষণের কোন সুযোগ না থাকায় ক্ষতির মুখে পোলট্রি, দুগ্ধ খামারি ও মৎস্য চাষীরা। দৈনিক প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে ধারণাকরা হচ্ছে। কবে যে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

মিরসরাই উপজেলা পোলট্রি এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় ৯শ’ খামারি রয়েছেন। এমনিতে এবছর খামারিদের অবস্থা ভালো না। রোগবালাই লেগেই আছে। মেডিসিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি। এখন মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে অচলাবস্থা থাকায় হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বিয়েসহ সব অনুষ্ঠানাদি বন্ধ থাকায় খামারিরা মুরগী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

উপজেলার মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার খামারি মো: মোশারফ হোসেন বলেন, এতোদিন মুরগীর মূল্য কম ছিল, এখন লকডাউন অবস্থায় মুরগী নিয়ে কোথায় যাবো? খরচ তোলা তো দুরে থাক, কিভাবে শ্রমিকদের বেতন দেবো বুঝতে পাচ্ছি না।

মিরসরাই ডেইরি ফার্মাস এসোসিয়েশনের সভাপতি মো: হেদায়েত উল্লাহ বলেন, দেশের এমন পরিস্থিতিতে আমাদের মরণের অবস্থা হয়েছে। উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ১শ ডেইরি খামার রয়েছে। এসব খামারে প্রতিদিন ৪ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। বেশির ভাগ খামারি উৎপাদিত দুধ মিষ্টির দোকানে বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু করোনার কারণে অন্যান্য দোকানের ন্যায় মিষ্টির দোকানও বন্ধ। তাই খামারিরা দুধ বিক্রি করতে পারছেন না। খুচরা যারা দুধ কিনতেন তারাও বের হচ্ছেন না ঘর থেকে।

এতে খামারিদের বেহাল দশা। অন্যদিকে খামারের প্রাণীখাদ্য শ্রমিক পরিচালনায় প্রতিদিন টাকা খরচ হচ্ছে। এই দূর্যোগের সময় প্রাণী খাদ্যের দামও বেড়ে গেছে। এছাড়া দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন দেশের অন্যতম ডেইরি শিল্প প্রতিষ্ঠান নাহার ডেইরি ফার্ম।

ফার্মটির জিএম (প্রশাসন) ফাইম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আমাদের ফার্মে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে। এখন অচলাবস্থার কারণে বিভিন্ন স্থানে দুধ সরবারহ বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া ক্ষতির মুখে পড়েছে চট্টগ্রামের মৎস্যজোন হিসেবে পরিচিত মুহুরী মৎস্য প্রকল্পের প্রায় ৫ শতাধিক মৎস্য চাষী। চট্টগ্রামের মাছের চাহিদার ৭৫ ভাগ মাছ সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। বছরে প্রায় ৫শ’ কোটি টাকা লেনদেন হয়। করোনাভাইরাসের কারণে মাছ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে চাষীদের।

আনোয়ার এগ্রো মৎস্য প্রকল্পের স্বত্ত্বাধিকারী মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, গত কয়েক দিন ধরে প্রকল্প থেকে মাছ তোলা বন্ধ রয়েছে। কারণ মাছ তুলে কোথায় নিয়ে যাবো? কার কাছে বিক্রি করব? অনেক প্রজাতির মাছ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তুলে ফেলতে হয়, তা না হলে রোগ বালাই দেখা দেয়।

মিরসরাই উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র পোদ্দার বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শতাধিক ডেইরি ও ৮শ ছোট বড় পোলট্রি খামারি। সব কিছু বন্ধ থাকার কারণে ডেইরি খামারে উৎপাদিত দুধ ও পোলট্রি খামারে উৎপাদিত মুরগী সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে ফার্মের মুরগীর মাংসে করোনার সংক্রামক রয়েছে বলে গুজব উঠেছে। ফার্মের মুরগীর মাংসতে করোভাইরাসের কোনো সংক্রামক নেই।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ পোলট্রি ব্রিডারর্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও নাহার এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান টুটুল জানান, দেশে গার্মেন্টস শিল্পের পরই পোলট্রি শিল্পের অবস্থান। গ্রামভিত্তিক শিক্ষিত যুবকরা পোলট্রি ফার্ম করে তারা যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি দেশের পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছেন। বর্তমানে মুরগীর একদিন বয়সী বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ কেউ দুই থেকে ৫ টাকায় বিক্রি করতে চেয়েও ব্যর্থ হচ্ছেন। যেহেতু বিক্রি নেই, তাই উৎপাদকেরা বাচ্চা উৎপাদন বন্ধ করে দেবেন। আগামীতে দেশে মুরগীর সংকট দেখা দেবে। বর্তমানে যে অচল অবস্থা চলছে তা একমাস চললে অন্তত ৫শ’ কোটি টাকা এই খাতে ক্ষতির সম্মুখিন হবে। মৎস্য ও ডেইরি খাতও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।


আরো সংবাদ





justin tv