১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

চান্দিনায় দোকানিকে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের ৩ ইউনিট

নিহত নাছির উদ্দিন - ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার চান্দিনায় মো: নাছির উদ্দিন (২৬) নামের এক দোকানদেরকে কুপিয়ে টুকরো করে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশের তিনটি ইউনিট।

রোববার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনার নাওতলা এলাকায় চা দোকানদার নাছিরকে হত্যার পর সোমবার সকালে মহাসড়ক থেকে নিহতের দেহের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে আসে হাইওয়ে পুলিশ, চান্দিনা থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ এবং সিআইডি পুলিশের টিম। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের রক্তমাখা চাদর ও দোকানে পরে থাকা রক্ত নিয়ে যায় সিআইডি পুলিশের ক্রাইমসিন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট। সোমবার রাতে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা রবিউল্লাহ।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে মোয়াজ্জেম হোসেন নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এদিকে, দোকানদার নাছির উদ্দিন হত্যাকান্ডের রহস্য নিয়ে ধু¤্রজাল বিরাজ করছে। শান্ত ও নিরীহ স্বভাবের দোকানদার নাছির উদ্দিনের কোন শত্রু নেই তারপরও কেন এমন নির্মন হত্যাকান্ড এই নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও ভীতি বিরাজ করছে।

তবে নিহতের বাবা রবিউল্লাহর সন্দেহ অন্যদিকে। তিনি জানান, ‘পাশের রড-সিমেন্ট দোকানদার নাজমুল হাসান মোহন রোববার রাত ৮টায় আমার দোকানে এক বান্ডেল টাকা রেখে যান। এসময় ৮-১০ জন লোক ছিল। তার ১৫-২০ মিনিট পর তিনি তার টাকা নিয়ে যান। টাকা দেয়ার সময় লোকজন থাকলেও টাকা নেয়ার সময় কেউ ছিল না। ধারণা করছি দুর্বৃত্তরা আমার দোকানে রেখে যাওয়া টাকার জন্য এসে আমার ছেলেকে কুপিয়ে খুন করে। আর লাশ মহাসড়কে ফেলে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল।’

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আবুল ফয়সল জানান, হত্যাকান্ডের বিষয়টি এখনও পরিষ্কারভাবে কিছু বুঝা যাচ্ছে না। ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তিনটি ইউনিট পৃথকভাবে কাজ করছে। ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করে। বিষয়টি তদস্ত চলছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নাওতলা আলিম মাদরাসা সংলগ্ন একটি মার্কেটে নৈশ প্রহরীর কাজ করতেন নাওতলা গ্রামের রবিউল্লাহ। ওই মার্কেটে চা দোকানের ব্যবসা করতেন রবিউল্লাহর ছেলে নাছির উদ্দিন। রোববার রাতে রবিউল্লাহ শারীরিক অসুস্থতার কারণে নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে ছেলে নাছির উদ্দিন। রাতের কোনো এক সময়ে হত্যাকারীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ মহাসড়কে ফেলে দেয়। রাতে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মহাসড়কের দেড় কিলোমিটার জুড়ে লাশের বিচ্ছিন্ন অংশ পড়ে থাকে। সকালে দেহের অংশবিশেষ উদ্ধার করে পুলিশ।


আরো সংবাদ