৩০ মার্চ ২০২০

ওসি মোয়াজ্জেমের কারাদণ্ডে নুসরাতের মায়ের সন্তুষ্টি

ওসি মোয়াজ্জেমের শাস্তিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহত নুসরাতের মা - ফাইল ছবি

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দী ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানার রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা শিরিনা আখতার। একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

শিরিনা আখতার বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম সহযোগিতা তো দূরের কথা; বরং ভিড়িওটি ছড়িয়ে দিয়ে আরো ক্ষতি করেছেন। আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট। প্রধানমন্ত্রীকে আমার ধন্যবাদ। বিচার বিভাগ এবং মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

পুলিশের বিরুদ্ধে রায়ে আপনি নিরাপত্তা আশঙ্কায় ভুগছেন কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আশঙ্কা নেই। কারণ সব পুলিশই তো আর মোয়াজ্জেমের মতো খারাপ নয়। যেমন সব হুজুরই তো সিরাজ উদদৌলার মতো লম্পট নয়।’

তবে তিনি নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে দাবি জানিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদদৌলাকে যেন দ্রুত ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-শামস জগলুল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার প্রথম রায় এটি।

মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন নুসরাত। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মামলায় নুসরাতের বক্তব্য গ্রহণের সময় তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে।

এর জের অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে ধরে গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে পার্শ্ববর্তী একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় কয়েকজন। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নুসরাত মারা যান। হত্যা মামলায় ১৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

অন্যদিকে গত ১৫ এপ্রিল মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আদালত তার জবানবন্দি নিয়ে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত।

গত ২০ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-শামস জগলুল হোসেন। এ মামলায় ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।


আরো সংবাদ