২৬ নভেম্বর ২০২০

কুমিল্লায় মেয়েকে ধর্ষণ করতে বাবাকে অপহরণ!

আটক জামাল মিয়া - ছবি : নয়া দিগন্ত

কুমিল্লায় কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করতে তার বাবাকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ অপহৃতকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। সেই সাথে আটক করা হয়েছে এক অপহরণকারীকে।

রোববার প্রেসব্রিফিং করে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-এ সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন।

তিনি জানান, শনিবার জেলার আদর্শ সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকা থেকে ভিকটিম আজাদ হোসেনকে অপহরণ করা হয়েছিল। ঘটনার খবর জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে মাঠে নামে পুলিশ এবং দুই ঘণ্টার মধ্যে নাটকীয় কায়দায় নগরীর নেউড়া এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলা থেকে শেকল বাঁধা অবস্থায় ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অপহরণকারী চক্রের জামাল মিয়া নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

আটক জামাল মিয়া জেলার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বারেশ^র গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে। তিনি নগরীর নেউড়া এলাকায় জনৈক জহিরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

এদিকে, এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে রোববার রাতে চারজনকে আসামি করে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন সাংবাদিকদের জানান, আদর্শ সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে আজাদ হোসেন (৪৫) গত শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে তার বোনের বাড়ি পাশর্^বর্তী সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজারখোলা গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দৌলতপুর এলাকার চিশতিয়া জুট মিলের সামনে গেলে সেখানে সাদা রংয়ের একটি প্রাইভেটকারে চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার গতি রোধ করে এবং ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে করে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

পরে সন্ধ্যা পৌণে ৭টার দিকে অপহরণকারীরা আজাদ হোসেনের মেয়ে রিয়া আক্তারের মোবাইলে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নগরীর নেউড়া এলাকায় যেতে বলে এবং তার বাবার সাথে কথা বলিয়ে দেয়।

রাত পৌণে ৯টার দিকে ভিকটিমের মেয়ে রিয়া আক্তার বিষয়টি কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশকে জানায়।

তিনি আরো জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের নির্দেশে পুলিশের দুটি টিম ভিকটিমের মেয়ে রিয়াকে সাথে নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে ভিকটিম আজাদ হোসেনকে নগরীর নেউড়া ইকো পার্কের পাশের্^র একটি ছয়তলা ভবনের নিচ তলা থেকে শেকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনজন অপহরণকারী পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে জামাল মিয়া নামে এক অপহরণকারীকে আটক করা হয়।

ভিকটিম আজাদ হোসেন জানান, ‘মূলত আমাকে আটকে রেখে আমার মেয়ে রিয়া আক্তারকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে অপহরণকারীরা এই ঘটনা সৃষ্টি করে এবং এ বিষয়ে তারা পারস্পরিক আলোচনা করছিল। পুলিশের সহায়তায় আমি উদ্ধার হয়েছি এবং আমার মেয়ে একটি বড় ধরণের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।’

কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাহউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ভিকটিম আজাদ হোসেনের স্ত্রী মোরশেদা বেগম বাদী হয়ে রোববার রাতে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।


আরো সংবাদ