০৪ আগস্ট ২০২০

নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি, অপহৃত প্রবাসী ৭দিন পর উদ্ধার

24tkt

কুমিল্লা থেকে অপহরণের ৭ দিন পর মো. ইয়াছিন ওরফে সোহাগ নামে এক প্রবাসীকে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার পোস্তাগোলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণকারীচক্র ওই যুবককে নির্যাতনের ভিডিও তার মায়ের মোবাইলে পাঠিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

ভিকটিম সোহাগ জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পোমকাড়া গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। গত ১২ সেপ্টেম্বর তাকে কুমিল্লা থেকে কৌশলে অপহরণ করা হয়। শুক্রবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াৎ হোসেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ভিকটিম ইয়াছিন ওরফে সোহাগ (৩০) সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন। পরে চাঁদপুর জেলা সদরের পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের মৃত আবিদ মাস্টারের ছেলে নজরুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩৫) তার বন্ধু সোহাগকে ইতালিতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা সেন্টারে সোহাগের কাগজপত্র জমা দেয়। ১২ সেপ্টেম্বর ভিসা আনার জন্য সোহাগ বাড়ি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বের হয়।

ওইদিন বিকাল ৫টায় সোহাগ তার বন্ধু সুমনের সাথে ঢাকায় আছে বলে তার পরিবারকে মোবাইলে জানায়। এরপর থেকে সোহাগের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে সোহাগের মোবাইল হতে কয়েকটি ছবি ও ২টি মোবাইল নম্বর তার মায়ের মোবাইলে ইমোর মাধ্যমে পাঠানো হয়।

এরপর সোহাগের পরিবারের লোকজন ওই মোবাইলে কথা বলে জানতে পারে- সোহাগকে তার বন্ধু সুমন ও অজ্ঞাতনামা ২-৩জন বন্ধুসহ তাকে আটক করে রেখেছে। এ ব্যাপারে সোহাগের ভাই সুজন মিয়া ওইদিন ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর সুমন ও তার সঙ্গীরা অজ্ঞাত স্থানে একটি রুমে সোহাগকে আটকে রেখে তার হাত ও পা বাঁধা অবস্থায় কয়েকটি ছবি ও নির্যাতনের ভিডিও ইমোর মাধ্যমে তার মায়ের মোবাইলে প্রেরণ করে এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

পরে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এলআইসি টিম ও ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের টিম সোহাগকে উদ্ধারের জন্য অভিযানে নামে। তারা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ও বিভিন্ন সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, সোনারগাঁও এলাকাসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার শ্যামপুর থানা পুলিশের সহায়তায় পোস্তাগোলা ব্রিজের নিকট থেকে আহত অবস্থায় সোহাগকে উদ্ধার করে কুমিল্লা নিয়ে আসা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাখাওয়াৎ হোসেন জানান, ভিকটিম সোহাগকে তার বন্ধু সুমনসহ একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর আটকে রেখে হাত-পা বেধে নির্যাতনের ভিডিও তার মায়ের মোবাইলে পাঠিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

প্রেসব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা ডিবির ওসি মাইনুদ্দিন খান, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি শাহজাহান কবির, ডিবি এলআইসি টিমের প্রধান এসআই মোহা. ইকতিয়ার উদ্দিন, থানার এসআই বাবুল হোসেন।


আরো সংবাদ

হিজবুল্লাহর জালে আটকা পড়েছে ইসরাইল! (২৫৯৪৮)হামলায় মার্কিন রণতরীর ডামি ধ্বংস না হওয়ার কারণ জানালো ইরান (১৪৪৫৫)মরুভূমির ‘এয়ারলাইনের গোরস্তানে’ ফেলা হচ্ছে বহু বিমান (৯৬৪২)ভারতের যেকোনো অপকর্মের কঠিন জবাব দেয়ার হুমকি দিলো পাকিস্তান (৮৪৪৮)সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা : পুলিশের ২১ সদস্য প্রত্যাহার (৬৬৬৮)নেপালের সমর্থনে এবার লিপুলেখ পাসে সৈন্য বৃদ্ধি চীনের (৬৫১৮)আবারো তাইওয়ান দখলের ঘোষণা দিল চীন (৬৪৫৬)তল্লাশি চৌকিতে সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু দেশবাসীকে ক্ষুব্ধ করেছে: মির্জা ফখরুল (৬০৪৩)আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কেন সন্দিহান ইরান-কাতার? (৫৭২২)করোনায় আক্রান্ত এমপিকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়েছে (৫৪৭৮)