লোড হচ্ছে...

বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবপাচার পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আন্তর্জাতিক ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস’ (টিআইপি) প্রতিবেদনে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় ধাপে আছে। নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচার প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগ থাকলেও ঘাটতি ও চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। আমরা আশা করি, এই ঘাটতিগুলো কাটিয়ে উঠতে উদ্যোগী হবে সরকার। দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে হবে। রাশিয়ায় আটকে থাকা অন্যান্য বাংলাদেশীদের উদ্ধারে পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের চিকিৎসায় পদক্ষেপ নিতে হবে। কূটনৈতিক চ্যানেলে এ ধরনের অমানবিক আচরণের প্রতিবাদ জানাতে হবে। নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য তাই প্রয়োজন একটি সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় সংস্কারনীতি। জুলাইয়ের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে যদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে রূপ দেয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশের মানবসম্পদ, কৃষি, শিল্প, সমুদ্র, বাজার ও ভৌগোলিক অবস্থান, সবই শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত্তিতে পরিণত হতে পারে। তখন উন্নয়ন শুধু জিডিপির পরিসংখ্যান হবে না; তা হবে একটি সৎ, দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের বাস্তব রূপ
৯ ঘণ্টা ১৮ মিনিট আগে

শিশুু আইন ২০২৩ অনুসারে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু। প্রাণঘাতী কোনো অপরাধের জন্য তাকে কঠোর শাস্তি দেয়া যায় না। আইনের এই দুর্বলতার ফাঁকে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট আরো অপ্রতিহত হয়ে ওঠে। ভারত, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এই আইনের পরিবর্তন করেছে। এ আইনে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী কোনো কিশোর যদি খুন, ধর্ষণ বা মারাত্মক কোনো অপরাধ করে বসে, তবে তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা যাচাই করে নিয়মিত আদালতে বিচার করার বিধান তৈরি করা হয়েছে। এসব দেশে অপরাধের গভীরতা ও প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে কিশোরদের ফৌজদারি আদালতে বিচারের বিধান রয়েছে। এর বিপরীতে ১৮ বছর বয়সী একজন কিশোরকে দেয়া হয়েছে ভোটাধিকার, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মতোই ভালো মন্দ ভাবনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার। পরস্পর সাংঘর্ষিক এই আইনের সংশোধন প্রয়োজন। কিশোর গ্যাং রুখতে হলে প্রয়োজন সামাজিক অভিভাবকত্ব। প্রয়োজন তাদের অবসর সময়কে সৃজনশীলতার রূপান্তরের আয়োজন, সৃজনশীল সুস্থ শিক্ষার ব্যবস্থা।
৯ ঘণ্টা ২১ মিনিট আগে

চব্বিশের গণহত্যার বিচার আগে সম্পন্ন করতে হবে। ক্ষমতার সাড়ে ১৫ বছরে যত অপরাধ তারা করেছে সব বিচার শেষ করতে হবে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে— বিচারে যথেষ্ট গতি নেই। অপরাধীদের বেশির ভাগ রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর মধ্যে রিকনসিলিয়েশনের কথা তোলা হয়েছে, যা দুর্ভাগ্যজনক। জুলাইযোদ্ধাদের ওপর এ পর্যন্ত যত হামলা হয়েছে সবগুলোর বিচার হতে হবে। অন্যথায় বিদেশের মাটিতে তাদের সন্ত্রাস ঠেকানো যাবে না। যে কেউ তাদের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন।
১ দিন আগে

বাংলাদেশের গার্মেন্ট মালিকদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ এটিই। সাধারণ পোশাক তৈরি থেকে বেরিয়ে এসে কারিগরি পোশাক, বিশেষায়িত নিট পণ্য, উন্নত মানের ডেনিম ও পরিবেশবান্ধব উপকরণনির্ভর পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তবে এ জন্য শুধু উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়; দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত সহায়তা, সহজ অর্থায়ন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি এবং কার্যকর লজিস্টিকস ব্যবস্থাও থাকতে হবে। সেটি সরকারের বিশেষ মনোযোগ দাবি করে।
১ দিন আগে

কটুবাক্য নয়, কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, বিষোদ্গারও নয়। মতপার্থক্য থাকবে; কিন্তু তা যেন বিভেদ ও বিদ্বেষের কারণ না হয়। আসুন, আল-ইত্তিফাক মাআল-ইখতিলাফ, ভিন্নতা সত্ত্বেও ঐক্যের পথ অনুসরণ করি। প্রত্যেক ব্যক্তি ও দলের স্বাতন্ত্র্য ও মতভিন্নতাকে সম্মান জানিয়ে অভিন্ন লক্ষ্য ও বৃহত্তর কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হই। আমাদের এই সংগ্রাম প্রতিহিংসার নয়, আদর্শ ও জনকল্যাণের। লাখ লাখ মানুষের সমর্থন আমাদের শক্তি, তাদের প্রত্যাশা আমাদের দায়িত্ব। বিভেদের নয়, ঐক্যের; বিদ্বেষের নয়, সম্প্রীতির পথেই আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
১ দিন আগে

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, করকাঠামোর পর্যালোচনা এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ছাড়া শুধু মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, কৃষকের প্রকৃত আয় কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগ দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি মোকাবেলায় কৃষক ও ভোক্তার সুরক্ষা, উৎপাদন ব্যয় কমানো, সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা এবং কৃষকের ন্যায্য বাজার সংযোগকে একই নীতির অংশ করতে হবে।
১ দিন আগে

হাসিনার সাথে মোদির যে লক্ষণটি মিলছে না, সেটি হলো— তিনি এখনো রাস্তায় খুনে বাহিনী নামাননি বা নামাতে পারেননি। হারুন, মনির ও বিপ্লবদের সেখানে দেখা যাচ্ছে না। কারো হাতে চাইনিজ রাইফেল নেই। ভবনের ছাদে নিযুক্ত হয়নি কোনো স্নাইপার। ফলে এখনো এই আন্দোলনে প্রাণহানি নেই। ভারতের গণতন্ত্রের একটি ধোঁয়াশা অবস্থা তৈরি হয়েছে। রাস্তায় নামা ককরোচরা যদি ভয়ে রাজপথ ছেড়ে দেন তাহলে তারা সামনে একজন হাসিনা পাবেন। নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগের পর তিনি নিরাপত্তা বাহিনীও কুক্ষিগত করবেন। এই আশঙ্কা আছে, তারা দেশের নাগরিকদের হাসিনার মতো হত্যা করবে। সে জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হবে অনাগত এক জুলাইয়ের। সেটি আসতে কতদিন লাগবে তা কারো জানা নেই।
১ দিন আগে

আমাদের দেশে স্থানীয় সরকার বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ গণতন্ত্রের প্রাথমিক ভিত্তি। এতে হানাহানি-জালিয়াতি হলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ যেন কোনো রক্তপাতের কারণ না হয়। ইসি ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও আনন্দময় নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হোক।
২ দিন আগে

এলজিইডিসহ সরকারি তদারকি কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা ও পরোক্ষ যোগসাজশের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। আট বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকার পরও মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও প্রশাসনিক কর্তারা কেন চুপ ছিলেন, সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি কেন, সে হিসাবও বের করতে হবে। মনিটরিং ব্যবস্থা আরো গতিশীল করা জরুরি, যাতে প্রকল্প শুরুর পর কোনো ঠিকাদার কালক্ষেপণ করলে শুরুতেই ব্যবস্থা নেয়া যায়। এখন স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত নাগরিক কমিটি গঠন এবং ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে প্রতিটি কাজের অগ্রগতি প্রকাশ্যে আনার সময় এসেছে।
২ দিন আগে

সামরিক জোটের সাফল্য কেবল কত সৈন্য, যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র একত্র করা গেল, তার ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে হুমকি সঠিকভাবে শনাক্ত করা, বেসামরিক মানুষকে রক্ষা করা এবং প্রতিপক্ষের সাথে যোগাযোগের পথ খোলা রাখার ওপর। ইরানকে ঘিরে সঙ্ঘাতের সমাধান, ইয়েমেনে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এবং সুদানে যুদ্ধ বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া লোহিত সাগরে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। মক্কা জোট যদি কেবল সামরিক প্রতিক্রিয়ার কাঠামো না হয়ে সঙ্ঘাত প্রতিরোধ ও কূটনৈতিক সমাধানের ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে পারে, তাহলে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায়, যে সমুদ্রপথ বিশ্বকে যুক্ত করে, সেটিই বিভক্তির রেখায় পরিণত হবে। আর সেই বিভাজনের মূল্য শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকার মানুষকে নয়, বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষকেও দিতে হবে
২ দিন আগে

উৎসবের আনন্দ কারো কান্নার কারণ হতে পারে না। একটি পরিবারের কাছে একজন মানুষের জীবনই সবচেয়ে মূল্যবান। ঈদ হোক, দুর্গাপূজা হোক কিংবা অন্য কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক উৎসব— উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সবাই নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে।
২ দিন আগে

সশস্ত্র বাহিনীকেও বুঝতে হবে, আদেশ দিয়ে জনআস্থা সৃষ্টি করা যায় না। শৃঙ্খলাবদ্ধ সদস্যরা যখন মানুষের জীবন রক্ষা করেন, অধিকারকে সম্মান করেন, নিজেদের কাজের ব্যাখ্যা দেন এবং জবাবদিহি মেনে নেন, তখনই আস্থা গড়ে ওঠে। তাই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজনৈতিক অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা সংশোধনের সংকল্পও প্রয়োজন। প্রত্যেক কর্মরত কর্মকর্তা, বিশেষ করে বেসামরিক দফতরে দায়িত্ব পালনকারীদের প্রতি আহ্বান দৃঢ় : পদমর্যাদা ধারণ করুন বিনয়ের সাথে, দায়িত্ব পালন করুন সাহসের সাথে। নিজের এখতিয়ার অতিক্রম করবেন না। তোষামোদের বিনিময়ে উন্নতি কেনার চেষ্টা করবেন না। কারো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নিজের পোশাক ও পরিচয় ব্যবহার করতে দেবেন না
২ দিন আগে

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার জন্য শাহবাজ শরিফের সরকারকে সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এমন বার্তা দেয়া উচিত নয় যে, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে খায়বার পাখতুনখাওয়ায় নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই নীতির মাধ্যমে প্রদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। শাহবাজ শরিফের সরকার ইমরান খান ফোবিয়ায় বন্দী হয়ে গেছে। এ বন্দী সরকার পাকিস্তানকে বেসামরিক স্বৈরশাসনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সরকারকে ইমরান খান ফোবিয়া থেকে মুক্ত হতে হবে এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ওয়াজেদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
২ দিন আগে

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সহায়ক প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন— উচ্চ ফলনশীল বীজ ও বিভিন্ন সারের আনুপাতিক ব্যবহারের কারণে আমাদের দেশে উৎপন্ন হয় এমন সব ফসলের উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়েছে। এমন অনেক মৌসুমি ফসল আছে যেগুলো বৈজ্ঞানিক পন্থায় চাষ করে সারা বছর উৎপন্ন করা সম্ভব। তা ছাড়া অতীতে যে ভূমিতে বছরে এক ফসল হতো, এখন একই ভূমিতে দুই বা তিন ফসল হচ্ছে। আবার একই ভূমিতে একটি ফসলের ফাঁকে ফাঁকে আরেক ফসলের চাষ হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় ধান ও মাছের চাষ একই ভূমিতে একসাথে করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি প্রতিটি ফসল ও মাছ উৎপাদন বাড়াচ্ছে। কিন্তু কৃষক পর্যায়ে পাইকারি বিক্রয়মূল্য এবং ভোক্তাপর্যায়ে খুচরা বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যাপক ফারাক থেকে যাচ্ছে। এতে বাড়তি উৎপাদন ও বাড়তি মূল্য কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারছে না। বর্তমানে আমাদের বেশকিছু কৃষিপণ্য রফতানি হয়
৩ দিন আগে

ঢাকা থেকে কলম্বো, নাইরোবি থেকে কাঠমান্ডু— ইতিহাসের শিক্ষা অত্যন্ত নির্মম ও সত্য। যখন তরুণ সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে এবং নিজেদের অধিকার ও মর্যাদার লড়াইয়ে রাজপথে নেমে আসে, তখন বন্দুকের গুলি কিংবা প্রশাসনিক দমননীতি দিয়ে তাদের আটকানো যায় না। দিল্লির শাসকগোষ্ঠী যদি রাজপথের দেয়াল লিখন পড়তে ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশটিতে জেন-জি তরঙ্গের ধাক্কায় মোদি সরকারের সামনেও একটি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানই হয়তো অপেক্ষা করছে
৩ দিন আগে
