১৬ জুলাই ২০২০

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অর্থমন্ত্রী সবাইকে নিয়ে বসছেন আজ

সপ্তাহের প্রথম দিনে লেনদেন ৮৮ কোটি টাকা কমেছে
-

দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরেই মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। নিয়মিত বিরতিতে সূচক হারাচ্ছে এবং লেনদেন কমছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর থেকে প্রায় টানা দরপতন হচ্ছে। বাজেট ঘোষণার দিন থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। ৪০০ কোটি টাকার ঘর পেরোতে পারছে না দৈনিক গড় লেনদেন। ডিএসইতে গতকালও লেনদেন কমেছে ৮৮ কোটি ২ লাখ টাকা। ধারাবাহিক পতনে ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পথে বসার অবস্থা হয়েছে। মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।
টানা দরপতনে হতাশ পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডারদের সাথে আজ বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিএসই ব্রোকারর্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নেতৃবৃন্দ; আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শীর্ষ ব্রোকারহাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষসহ (আইডিআরএ) কয়েকটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
এ দিকে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দিনভর লেনদেন হয়েছে ৩১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪০৫ কোটি ১০ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৮৮ কোটি ২ লাখ টাকা। প্রধান মূল্যসূচক বাড়ালেও কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের পতন হয়েছে তবে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। মূল্য সূচকের পাশাপাশি এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বাজারে লেনদেনে অংশ নেয়া ১৮৪ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ১১৮টির। আর ৫০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৪২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাকি দু’টি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকায় গতকাল টাকার পরিমাণে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জেএমআই সিরিঞ্জের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার। ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বিকন ফার্মা। লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছেÑ ওয়াটা কেমিক্যাল, লিগাসি ফুটওয়্যার, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন ইস্টার্ন কেবলস, স্টাইল ক্রাফট, বঙ্গজ এবং ভিএফএস থ্রেড ডাইং।
অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৭৩ পয়েন্টে। বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ২১ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেয়া ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১২২টির, কমেছে ৯৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৯টির।
গতকাল রোববার সকালেই কিছুটা নিম্নœমুখী ধারায় লেনদেনে শুরু হয় পুঁজিবাজারে। তবে ৫ মিনিটের মধ্যে সূচক বিপরীত দিকে যাত্রা করে। বেলা ১১টা ১৮ মিনিট নাগাদ ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৭ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৪০ পয়েন্টে উন্নীত হয়। বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে ফের সূচক টানা নিচের দিকে নামতে থাকে। বেলা দেড়টা নাগাদ তা ৪ হাজার ৯১৬ পয়েন্টে নেমে এসে সেখান থেকে বাউন্সব্যাক করে। দিনের বাকি সময়টুকু সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী ধারায়। মূলত ব্যাংক ও টেলিকম খাতের ওপর ভর করে সূচকটি ধনাত্মক অবস্থানে উঠে আসতে সক্ষম হয়। ডিএসইতে গতকাল তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেকের দাম বেড়েছে। তালিকাভুক্ত ৩০ ব্যাংকের মধ্যে ১৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে সাতটির। বাকি ব্যাংকগুলোর শেয়ারের দাম ছিল অপরিবর্তিত।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারের মন্দাবস্থার উত্তরণে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে অনুষ্ঠেয় অর্থমন্ত্রীর আজকের বৈঠককে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে। তাই গতকাল বিক্রির চাপ ছিল কম। অন্য দিকে বৈঠকের দিনে মন্ত্রীকে যাতে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যে সূচক ধনাত্মক রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টরাও ছিলেন বেশ তৎপর। এর প্রতিফলন ঘটেছে সূচকে।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পূঁজিবাজার উন্নয়নে এর আগেও সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ওই বৈঠকের পর কোনো সুফল না এলেও আজকের বৈঠকের প্রতি মুখিয়ে আছেন সবাই। গত ২২ এপ্রিল তিনি বিএসইসিতে কমিশনের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম মন্ত্রীর সাথে ছিলেন। ওই বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন ও তিন কমিশনার অংশ নেন। এতে পুঁজিবাজারের কোনো স্টেকহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন না। বিএসইসির কোনো কর্মকর্তাকেও বৈঠকে রাখা হয়নি। ওই বৈঠকের আগের তিন মাসে ডিএসইএক্স কমেছিল ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ। এই সূচকটি ২৩ জানুয়ারি ৫ হাজার ৯২৫ দশমিক ২৪ পয়েন্টে ছিল। তিন মাসের ব্যবধানে ২১ এপ্রিল তা ৫ হাজার ৩২৩ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে নেমে আসে।


আরো সংবাদ

অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হলে কৃষিক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন আসবে : ড. রাজ্জাক সাহেদ কি সত্যিই করোনায় আক্রান্ত? জেকেজি-রিজেন্ট কেলেঙ্কারি, করোনা টেস্টে কি আস্থা ফিরবে যে ফিল্মগুলো সরাসরি রিলিজ করবে নেটফ্লিক্স মানিকগঞ্জে যমুনার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত আমাদের স্বাস্থ্য সেবা অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে ভালো : স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাজীপুরে শাহীন ক্যাডেট একাডেমিকে জরিমানা ‘সরকার ভগবান নয়, মানুষকেও সচেতন হতে হবে’ লাকসাম উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানের মাতার ইন্তেকালে জামায়াতের শোক প্রবাসীদের অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত ব্রিফিং করার পরামর্শ রংপুরে কোটি টাকার জাল বিড়ির ব্যান্ডরোল জব্দ

সকল