২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯, ১ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

টানা ৫ দিনের জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত ভোলার শতাধিক পুকুর-ঘের, দিশেহারা মালিকরা

টানা ৫ দিনের জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত ভোলার শতাধিক পুকুর-ঘের, দিশেহারা মালিকরা - ছবি : নয়া দিগন্ত

টানা পাঁচ দিনের জোয়ারে ভোলার তিনটি ইউনিয়নের শতাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে চরম সংকটে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ও ঘেরের মালিকরা। আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়া এসব মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এসব চাষীরা কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন সে চিন্তার ছাপ তাদের চোখে-মুখে। তবে মৎস্য বিভাগ থেকে তালিকা তৈরি করা হলেও কবে নাগাদ তারা সহায়তা পাবেন, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

স্থানীয়রা জানান, গত পাঁচ দিন ধরে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আর এতেই অতি জোয়ারে তলিয়ে গেছে ভোলা সদরের রাজাপুর, ধনিয়া ও ইলিশা ইউনিয়নের শতাধিক পুকুর ও ঘের। পানিতে ভেসে গেছে তাদের অর্ধকোটি টাকার মাছ। আর্থিকভাবে লাভের আশায় এসব মানুষ পুকুর-ঘেরে মাছ চাষ করেছিলেন। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন ভেসে গেছে জোয়ারের পানিতে। এখন কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন সে চিন্তায় দিশেহারা তারা।

কন্দকপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরের মালিক মো: মতিন বলেন, জোয়ারের পানিতে আমার পাঁচ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। জোয়ারে ভেসে গেছে তাজুল ইসলামের ৫০ হাজার টাকার মাছ। তিনি জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পুকুরে মাছের পোনা ছেড়েছেন কিন্তু সব ভেসে গেছে। ক্ষতি হয়েছে নুর নাহার বেগম ও মনিরুল ইসলামের পুকুরও। তারা জানালেন, লাভের আশায় কিছুদিন পূর্বে তারা মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু সেই মাছ ভেসে গেছে। লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তাদের। একই কথা জানালেন খাদিজা বেগম রোজিনা আক্তার। বলেন, কিছুদিনের মধ্যে মাছ বিক্রির কথা ভাবছিলাম, কিন্তু জোয়ারে সব শেষ। এখন কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবো।

রাজাপুর ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: হারুন বলেন, পুরো রাজাপুর ইউনিয়নের অর্ধশত ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত। জোয়ারের পানির এতো চাপ বেড়েছে যে রাস্তাঘাটও ভেঙ্গে গেছে। পুকুর, ঘের ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজাপুর ইউনিয়নের কন্দকপুর গ্রামে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চারদিকে পানি, বাড়ির উঠান, রাস্তাঘাট ফসলের ক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে আছে। এমন চিত্র দেখে বোঝা যাচ্ছে না যে এখানের কোনটি পুকুর-ঘের কোনটি সমতল ভূমি? জোয়ারের পানিতে জনপদের পুরো এলাকা যেন ভাসছে। এমনচিত্র শুধু কন্দকপুর গ্রামের নয়; বরং মেদুয়া, চর মোহাম্মদ আলী, দাউয়া, মেদুয়া, রামদাসপুর ও শ্যামপুর গ্রামেও। ডুবে আছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘর-ভিটা তলিয়ে যাওয়ায় অনেকের ঘরে রান্নার চুলো জ্বলছে না। বেশিরভাগ রাস্তা বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।

উপকূলের এসব মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস ছিলো মাছ চাষ, কিন্তু জোয়ারের পানিতে সেই মাছই তারা হারালেন। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থদের দ্রুত সহায়তার দাবি জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

পূর্ব ইলিশা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটন বলেন, গত চার দিনের জোয়ারে আমার এলাকার বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, বিশেষ করে আমনের বীজতলা এবং পুকুর-ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে ভোলা সদর সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: জামাল হোসাইন বলেন, জোয়ারে অনেক পুকুর এবং ঘেরের মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। তাদের জন্য যদি কোনো সহায়তা আসে, তাহলে তা দ্রুত বিতরণ করা। এদিকে জোয়ার এলেই বারা বার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বাঁধের বাইরের এসব মানুষ। তাদের জন্য স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি ভোলাবাসীর।


আরো সংবাদ


premium cement