২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯, ১ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`
লঘুচাপ ও পূর্ণিমার আগাম প্রভাব

ভোলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি লাখো মানুষ

ভোলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি লাখো মানুষ - ছবি : নয়া দিগন্ত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ভোলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে স্বাভাবিক জোয়ার থেকে ২-৪ ফুটের অধিক উচ্চতায় পানি বেড়েছে। এতে জেলার ২০-২৫টি চরের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে ওইসব চরের পানিবন্দি মানুষ। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধের পাশের মানুষজনের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ভোলায় মেঘনা নদীর পানি স্বাভাবিকের চাইতে ৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ভোলা সদরের রাজাপুর, নাছির মাঝি, মদনপুর, কলাতলি, ঢালচর, পাতিলা, চর নিজাম, কাজিরচরসহ বিচ্ছিন্ন ২০-২৫ চরের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে। বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থিত নিম্নাঞ্চলের শতশত বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এসব স্থানের পানি ভাটার টানে নেমে গেলেও জোয়ারে আবার তলিয়ে যাচ্ছে।

ভোলা মনপুরার কাজির চরের বাসিন্দা মো: সিরাজ হাওলাদার বলেন, লঘুচাপ ও পূর্ণিমার আগাম প্রভাবে দুইদিন ধরে কাজির চরের কয়েক শতাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এই চরে কোনো আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় মানুষ এখন ঘরের মাচার উপর দিন কাটাচ্ছে। জোয়ার আসলে মাচায় উঠে। আর ভাটার সময় নেমে আসে।

তিনি জানান, পানিতে ইতোমধ্যে এই চরের বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জোয়ারের পানিতে গবাদি পশু বাসিয়ে নিয়ে গেছে। এছাড়াও পুকুরের মাছ, ফসলি জমি, চরের মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে চরের বাসিন্দারা। চরে কোনো স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় এই সমস্যা হয়েছে বলে জানান তিনি। সরকার যেন এসব চরের মানুষের জন্য আলাদা করে নজর দেন এটাই দাবি তাদের।

ভোলার সদরের নাছির মাঝি এলাকার বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা বাসিন্দা মাজেদা বেগম বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আমরা বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস করছি। বেড়িবাঁধের বাইরে যারা আমরা থাকি অনেক কষ্টে থাকি। জোয়ার আসলে আমাদের সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ‘ঘরের চুলাডা পর্যন্ত পানিতে ডুইব্বা গেছে। এহন রান্না করুম কেমনে আর খামু কি। সরকার যদি নদীপাড়ে একটা রিং বেড়িবাঁধ করে দিতো তাহলে আর পানিতে কষ্ট পাইতামনা।’

বেড়িবাঁধে থাকা আব্দুল মতিন বলেন, পানির তীব্র চাপে নাছির মাঝি বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে করে আমরা সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে আছি। এই বেড়ি দ্রুত সংস্কার না করলে পানির আরো চাপ বাড়লে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি শহরের মধ্যে প্রবেশ করবে। তখন মাছের ঘের, ফসলি জমি, মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়াও পানির চাপে ভোলার তুলাতুলি, ইলিশার বেশ কিছু পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

ভোলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, বঙ্গোপসাগর লঘুচাপ ও পূর্ণিমার আগাম প্রভাব গত দুইদিন ধরে মেঘনা-তেতুঁলিয়া নদী উত্তাল রয়েছে। জোয়ারের সময় উপকূলের নদ-নদীতে আগের চেয়ে বেশি পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বেশিরভাগ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে আর ভোলার তেঁতুলিয়া নদীর পানি ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ বিদ্যমান থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটি মৌসুমী পানিপ্রবাহ। আশা করা যাচ্ছে দুই দিন পর নিরাপদ সীমায় নামবে নদীর পানি প্রবাহ।

এদিকে, এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ-এর সহকারী পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, জোয়ারে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট তলিয়ে গেছে। ফলে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল। জোয়ারে পানি নেমে গেলে ভাটা শুরু হলে ঘাটটি মেরামত করা হবে।


আরো সংবাদ


premium cement