১৫ আগস্ট ২০২২
`

নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় বিত্তবানদের নাম

নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় বিত্তবানদের নাম - ছবি: নয়া দিগন্ত

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের বিষখালী নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় বিত্তবানদের নাম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো সুপারিশের তালিকায় বাদ পড়া প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ে এসে মৌখিকভাবে এমন অভিযোগ করেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বিষখালী নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে ২০১৯ সালে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। ওই কমিটি উপজেলা থেকে ২০৩ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে। এ তালিকা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তালিকায় একজনের নাম একাধিকবারও রয়েছে। এছাড়াও যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো তাদের নামও আছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায়। বর্তমানে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৯ লাখ টাকার একটি বরাদ্দ এসেছে যা সর্বোচ্চ ৩৬ জনকে দেয়া যাবে।

ইউনিয়ন পরিষদের তালিকায় নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বাদ পড়া দেলোয়ার হোসেন, জালাল, মালেক, শহীদ, জলিল, মিনারাসহ আরো অনেকের অভিযোগ, তাদের প্রত্যেককে সরকারি বরাদ্দ থেকে ১০ হাজার টাকা করে দেয়ার কথা বলে দুই হাজার টাকা করে ঘুষ নেয় ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য তাজেদা বেগমের স্বামী মো: বাবুল গাজী।

পরে টাকা বরাদ্দ বেশি জানতে পেরে তাদের টাকা ফেরত দিয়ে যারা বেশি টাকা দিয়েছে তাদের নাম তালিকায় সুপারিশ করা হয়। যাদের নাম তালিকায় সুপারিশ করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন বিত্তবানের নামও রয়েছে। এমনকি মহিলা ইউপি সদস্য তাজেদা বেগমের স্বামী মো: বাবুল গাজীর নাপিতের হাটে ১০টি দোকান থাকলেও তালিকায় তার নাম রয়েছে। ফারুক নামে এক ব্যক্তির দোতলা ভবন রয়েছে এবং তার দু’ছেলে বিদেশে থাকার পরও তার নাম রয়েছে তালিকায়। এছাড়াও গ্রতিগ্রস্ত না হয়েও পাকা ভবনের মালিক ব্যবসায়ী দুলাল মুন্সীর বরাদ্দের তালিকায় নাম রয়েছে। যাচাই-বাছাই না করে তালিকা অনুমোদন দেয়ায় এমনটা হয়েছে বলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেন।

বিষখালী নদী ভাঙনে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ‘৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য তাজেদা বেগমের স্বামী মো: বাবুল গাজী নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করেন। এ তালিকায় নিজের নামটিও সুযোগ বুঝে দিয়েছেন। অথচ যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত তাদের নাম দেননি। আমাদের কাছ থেকে দু’হাজার করে টাকা ঘুষ নিয়ে তা ফেরত দিয়েছেন। এখন শুনলাম যারা বেশি টাকা ঘুষ দিয়েছে, তাদের নাম তালিকায় আছে।’

এ ব্যাপারে মঠবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো: জালাল আহম্মেদ বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। অল্প সময়ের মধ্যে তালিকা তৈরি করতে হয়েছে। তালিকায় বিত্তবানদের নাম থাকলে তা বাতিল করে পুনরায় তালিকা তৈরি করা হবে।

মহিলা ইউপি সদস্যের স্বামী মো: বাবুল গাজী টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা আমাদের ভোট দেয়নি, তারাই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। আপনার নাম তালিকায় এলো কিভাবে, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।

রাজাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মামুন-অর-রশিদ বলেন, তালিকা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। আমরা ওই তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান খান বলেন, আমার কাছে কয়েকজন এসে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। অনিয়ম থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


আরো সংবাদ


premium cement