০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, মেঘনায় ধরা পড়ছে ইলিশ

সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, মেঘনায় ধরা পড়ছে ইলিশ - ছবি : নয়া দিগন্ত

সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৬৫ দিনের জন্য ইলিশ ধরা বন্ধ রয়েছে। তবে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ইলিশ। এতে হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।

জেলেরা জানান, দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার পর ১ মে থেকে নদীতে ইলিশ ধরা শুরু হলেও তেমন একটা ইলিশের দেখা মেলেনি। এখন যে পরিমাণ মাছ ধরা পড়ছে, তাতেই খুশি। এতে জেলেরা সঙ্কট দূর করতে পারবেন বলে আশাবাদী।

ভোলার তুলাতলী, ইলিশা, নাছির মাঝি, ভোলার খাল, বাত্তির খাল, জোড়খালসহ বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে জেলেদের সাথে কথা বলে ইলিশের এমন তথ্য মিলছে।

জানা গেছে, মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল। মে মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হয় মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ ধরা। তখন সারাদিন জাল বেয়েও চাহিদার পরিমাণ মাছ পায়নি জেলেরা। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ইলিশ। এতে হাসি ফুটেছে জেলেদের মুখে। এছাড়া সঙ্কট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদী তারা।

লালমোহনের বাত্তির খাল এলাকার জেলে মনির মাঝি মো: মহিউদ্দিন বলেন, কিছু দিন হলো নদীতে মাছ ধরা পড়ছে। এমন অবস্থা থাকলে আমাদের সঙ্কট থাকবে না।

আরেক জেলে নুর উদ্দিন বলেন, দুই থেকে তিন দিন ধরে নদীতে ইলিশ বেড়েছে। প্রতিবার নদীতে গিয়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মাছ পাচ্ছি। মাছগুলোও অনেক বড় সাইজের। ফলে দামও অনেক ভালো পাচ্ছি।

একই কথা জানালেন জেলে জোবায়ের, আব্বাস, গিয়াসসহ অন্যরা। তারা জানান, এখন আর কারো বসে থাকার সময় নেই। সবাই ব্যস্ত মাছ ধরা নিয়ে।

এদিকে, ইলিশ ধরাকে কেন্দ্র করে সরগরম ইলিশের আড়ৎগুলো। জেলেরা জাল, নৌকা নিয়ে ছুটছেন নদীতে। ব্যস্ততা বেড়েছে তাদের।

ভোলা সদরের তুলাতলী ঘাটে আড়তদার মো: মঞ্জু হোসেন বলেন, আগের তুলনায় এখন বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। আগে এখানকার ১২টি আড়তে ৫০ হাজার টাকার মাছ কেনা-বেচা হতো। এখন তা বেড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা হয়েছে।

জেলে সমিতির সভাপতি মো: এরশাদ ফরাজি বলেন, ইলিশ ধরা পড়ছে, এভাবে চলতে থাকলে কিছুটা হলেও জেলেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম বলেন, অসময়ে মাছ ধরা পড়ায় ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছি। বিগত এমন সময়ে তেমন ইলিশ ধরা পড়েনি, এখন বড় ইলিশ ধরা পড়ছে। এটা জেলে ও মৎস্য বিভাগের জন্য সুখবর।

মৎস্যজীবীরা মনে করেন, এতদিন ঋণ আর দেনার দায়ে যারা জর্জরিত ছিল, তারাও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে।

গত ১৮ মে থেকে ৬৫ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও নদীতে মাছ ধরা পড়ায় জেলেদের অভাব-অনটন কেটে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আরো সংবাদ


premium cement