৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

চেয়ারম্যানের অনুমোদিত কাটিং ছাড়া চুল কাটলে ব্যবস্থা!

চেয়ারম্যানের অনুমোদিত কাটিং ছাড়া চুল কাটলে ব্যবস্থা! - ছবি : নয়া দিগন্ত

চেয়ারম্যানের অনুমোদিত কাটিংয়ে মাথার চুল কাটাতে হবে। আর ‘চেয়ারম্যানের নির্দেশ ছাড়া চুল কাটলে ‘আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’। এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি সেলুনে। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

অনেকেই বলেন, স্বাধীনদেশে এমন সংবাদ শুনলে হতবাক হওয়া ছাড়া উপায় কী! তবে এমন বিজ্ঞপ্তি লাগানো হয়েছে চরফ্যাশনের জাহানপুর ইউনিয়নে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝেও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বৈছে।

জানা গেছে, ২৫ অক্টোবর ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন হাওলাদার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন, যা ইউনিয়নের সর্বত্র লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এমন বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদ করায় এক কিশোরকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের ছেলে তুষারের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘এতদ্বারা জানানো যাচ্ছে যে ১৪নং জাহানপুর ইউনিয়নের সকল সেলুন দোকান মালিক ও কারিগরদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে সুন্নতি কাটিং, ডিফেন্স/আর্মি কাটিং ব্যতিত অন্য কোনো কাটিং দেয়া আইনানুক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠলে বুধবার বিকেলে ভুল শিকার করে নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সেলুনে যে নোটিশ দিয়েছি তা আইনি প্রক্রিয়ার বহির্ভূত হয়েছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কিছু মুরুব্বির কথায় দিয়েছিলাম। তুলে নিয়েছি নোটিশ।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন হাওলাদার নয়া দিগন্তকে বলেন, ইয়াং ছেলেদের চুলের স্টাইল ও কালার করার বিষয়ে স্থানীয় মুরুব্বিরা আমার কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেন। আমি কয়েকজনকে চুল কাটার বিষয়ে বুঝিয়েছি। কিন্তু তারা তা না মানায় আমি স্থানীয় মুসলিমদের সাথে কথা বলে ২৫ অক্টোবর নোটিশ জারি করি। তবে এটা আইন বহির্ভূত, তা আমার জানা ছিল না। বিষয়টি আমি নিশ্চিত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার দিয়ে প্রতিটা নোটিশ তুলে নিয়েছি। আমার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে দিয়েছি।

এ দিকে কিশোরকে মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ছেলে তুষারের সাথে স্থানীয় জসিমের ছেলের চুলকাটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমি জানতে পেরে অভিভাবক ডেকে মিটমাট করে নিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নোমান রাহুল জানান, একজন ইউপি চেয়ারম্যান এরকম নোটিশ জারি করতে পারেন না। তিনি যেটা করেছেন আইন লঙ্ঘনসহ মানুষের রুচিশীলতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছেন।

উল্লেখ, নাজিম উদ্দিন হাওলাদার গত ইউপি নির্বাচনে প্রথমবারের মতো নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।



আরো সংবাদ