৩০ জুলাই ২০২১
`

বাবুগঞ্জে নৌকার বিপক্ষে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতির পরিবার!

বাবুগঞ্জে নৌকার বিপক্ষে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতির পরিবার! - ছবি : সংগৃহীত

বরিশালের বাবুগঞ্জে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরোধিতা করার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

উপজেলার ১ নম্বর বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সরদার মো: তারিকুল ইসলামের বিপক্ষে স্বতন্ত্রপ্রার্থীর ব্যানারে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কামরুল আহসান হিমু।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের আপন চাচাতো ভাই কামরুল আহসান হিমু ২০১৬ সালে ইউনিয়নে এবং ২০১৪ সালে উপজেলায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় হিমু খান প্রকাশ্যে আল নাহিয়ান জয়ের কথা বলে ভোট প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি জয়ের বাবা আবদুল আলিম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিমুর পক্ষে গণসংযোগ করায় এবং ঢাকায় আল নাহিয়ান জয়ের অনুগত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তার চাচাতো ভাই কামরুল আহসান হিমুর পক্ষে জনসংযোগ করছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে হিমুর স্বপক্ষে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামরুল আহসান হিমু’র পক্ষে এক সময়ের প্রভাবশালী জাকির হোসেন সান্টু, নতুন চরের মোশারেফ হাওলাদার, চর উত্তরের শওকত, মিয়া বাড়ির সোহান, ব্রাক্ষণদিয়ার কালাম মীরা, রব ব্যাপারী, মহিউদ্দিন ব্যাপারী, নুরু শিকদার, জামাল খান, আলিম মোল্লাসহ চিহ্নিত অপরাধীরা গণসংযোগ করায় ভোটারদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। এমন অপরাধী ও বিএনপি নেতার স্বপক্ষে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের বাবার গণসংযোগ আওয়ামী লীগের ভাবমর্যাদা নষ্ট করছে বলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বরিশাল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এনএসআই, ডিজিএফআই বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সরদার মো: তারিকুল ইসলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, হিমু সমর্থকরা গত ১০ জুন সন্ধ্যায় ১ নম্বর বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের শিলনদীয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় হামলা চালিয়ে দুটি প্রচার মাইক ভাংচুর করেছে। এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সরদার মো: তারিকুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ করেন।

অপর দিকে ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে কিছু অপরিচিত মুখ হিমুর পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে ছাত্রলীগ সভাপতি জয়ের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে হিমুর প্রতি।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সরদার তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্বতন্ত্রপ্রার্থী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কামরুল আহসান হিমুর চাচাতো ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান জয়ের প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।’

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও তার বাবা আবদুল আলিম খানের মুঠো ফোনে বারবার ফোন দেয়া হলেও তারা ফোনটি রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো সহিংসতা করতে দেয়া হবে না।

উল্লেখ্য, স্থানীয় নির্বাচনে বিগত ২৫ বছর ধরে কামরুল আহসান হিমু আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচন করছে এবং আল নাহিয়ান খানের বাবা আব্দুল আলিম খান তার পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব খাটাতে গিয়ে আলিম খান আওয়ামী লীগের কর্মীদের কাছে লাঞ্ছিতও হন। আব্দুল আলিম খান ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ডামি হিসেবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন এবং ২০০৮ সালে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সমন্বয়ক ছিলেন।



আরো সংবাদ