২৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৫
`

পটুয়াখালীতে ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় ২৭২ জন

পটুয়াখালীতে ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় ২৭২ জন - ছবি- সংগৃহীত

পটুয়াখালীতে ব্যাপকহারে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে রোগী। অনেক রোগী বেডের অভাবে হাসপাতালের মেঝেতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছে। ডায়রিয়া রোগীর চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের।

রোববার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৭২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলার হাসপাতালগুলোতে মোট শয্যা সংখ্যার দ্বিগুণ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে। জেলার মির্জাগঞ্জের ৫০ শয্যা হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী সাহারা সানফুল নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

দুমকী উপজেলার ৩১ শয্যা হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। এ উপজেলার জলিশা গ্রামের আ: হক মুনশী (৮২) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শনিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মীর শাহিদুল হাসান জানান, আ: হক মুনশী ডায়রিয়া নিয়ে আসলেও তার গ্যাস্ট্রো এন্টিরাইটিজ এসপিরেসন নিমোনিয়া ছিল। তার শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার সমস্যাও ছিল।

পটুয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসের সূত্র মতে, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ মোট আটটি উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮৪ জন, মির্জাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ৭৩ জন, দুমকী উপজেলা হাসপাতালে ৩১ জন, গলাচিপা উপজেলা হাসপাতালে ১৫ জন, দশমিনা হাসপাতালে ২৭ জন, কলাপাড়া হাসপাতালে ১৬ জন, বাউফল হাসপাতালে ২০ জন ও সদর উপজেলা হাসপাতালে ছয়জন। আর গত এক সপ্তাহে জেলায় এক হাজার ২১৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইতোমধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত উপজেলাগুলোতে তিনি ভিজিটি করেছেন। পানিতে অতিমাত্রার লবনাক্ততা থেকেই ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানি পরীক্ষার করানোর জন্য আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র- আইসিডিডিআর’বিতে পাঠানো হয়েছে।

কলেরা স্যালাইনের সঙ্কট প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন বলেন, জেলা ওষুধ প্রশাসনের সঠিক নজরদারীর অভাবে বাজারে কলেরা স্যালাইনের কৃত্রিম সঙ্কটের চেষ্টা চালাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।


আরো সংবাদ



premium cement