২০ এপ্রিল ২০২১
`

দশমিনায় তরমুজের বাম্পার ফলনের পরও পরিবহন সঙ্কটে চাষি

-

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আগাম তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। ক্ষেতের তরমুজ বিক্রিতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ইতিমধ্যে ক্ষেতের তরমুজ পাইকারি ও খুচরা বিক্রি শুরু করেছেন তারা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা তরমুজ কিনতে আসতে শুরু করেছেন এ এলাকায়।

তবে কৃষকদের দাবি করোনাভাইরাসের কারণে ও কাটাখালীর সড়ক সংস্কারে নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় উৎপাদিত তরমুজ উপজেলার বাইরে নিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। সে কারণে তরমুজের ভালো দাম পাওয়া নিয়েও হতাশ কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাটাখালী চর ভুভেন্দ্র এলাকায় তালুকদার বাড়ির ৭৫ একর জমিতে ১৭ জন চাষি ড্রাগন তরমুজ চাষ করেছেন। এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তরমুজ চাষে চাষিদের প্রতি একরে সার ও কীটনাশকে ১০ হাজার করে টাকা খরচ হয়েছে।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর উপজেলার সাত ইউনিয়নে চরাঞ্চলসহ প্রায় ৫ শ’ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৫০ হেক্টর বেশি জমিতে এ রসালো ফলের চাষ করা হয়েছে। ভালো ফলনের আশায় তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছে উপজেলার চাষিরা। ডিসেম্বর থেকেই তরমুজের চাষ শুরু করেন কৃষকেরা। শীত শেষে এ ফসলটি বাজারজাত শুরু করার কথা রয়েছে।

উপজেলার কাটাখালী গ্রামের তরমুজ চাষি মো. কামাল হোসেন জানান, গত বছরে তরমুজে ভালো লাভ হয়েছে তাই এবার দু’জনে মিলে ১১৫ কড়া জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ফলের মুখ দেখতে জমি ক্রয় থেকে শুরু করে সার ওষুধে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ক্ষেতে তরমুজ দেখে মন ভালো লাগলেও হঠাৎ রাস্তার কাজের কারণে বিপদে আছি।

একই গ্রামের তরমুজ চাষি আলাউদ্দিন আকন জানান, আমি ২০ কড়া জমিতে তরমুজ চাষ করেছি, ফলনও ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভবান হবো। কৃষকরা আরো বলেন, আমরা কঠোর পরিশ্রম করার পরে বাম্পার ফলন হয়েছে। আর নিয়মিত সার-কীটনাশক প্রয়োগ, নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করার পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রেখেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ জানান, এ উপজেলায় তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। এবার এ উপজেলায় তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে।
কিন্তু, কাটাখালী সড়ক পাকা করার কাজ চলমান হওয়ায় কৃষকদের ফসল উপজেলার বাইরে নিতে একটু সমস্যা হবে।



আরো সংবাদ