২৩ এপ্রিল ২০২১
`

পটুয়াখালীতে জোড়া লাগা যমজ শিশুর জন্ম

পটুয়াখালীতে জোড়া লাগা যমজ শিশুর জন্ম - ছবি : নয়া দিগন্ত

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জোডা লাগা যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে। শিশু দুটির বুক থেকে কোমর পর্যন্ত জোডা লাগানো। ওই শিশুর হাত-পা, মাথা, নাক, কান, চোখ ও মুখ ঠিক থাকলেও নেই মলদ্বার। রোববার দুপুরে গাইনি বিভাগে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এই যমজ শিশুর জন্ম হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো: বশির সিকদারের স্ত্রী সন্তান সম্ভ্যবা রেখা বেগম (১৮) গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা। রোববার সকালে অস্বাভাবিক যন্ত্রণা অনুভূত হলে ডা: সেলিনা আক্তার সিজারিয়ান অপারেশন করে সন্তান প্রসব করান। রেখা বেগম বর্তমানে সুস্থ থাকলেও জোড়া লাগা যমজ শিশুদের স্ক্যানু তে রাখা হয়েছে।

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের গাইনী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: জাকিয়া সুলতানা জানান, ‘কনজয়েন্ট বেবি তাও আবার প্রিম্যাচিওর, মাত্র ৩২ সপ্তাহে এই যমজ বাচ্চা প্রসব করানো হয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু আর্থিক অবস্থাভালো হওয়ায় তারা রাজি হননি। এই বাচ্চার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন যা পটুয়াখালীতে সম্ভব না।

তিনি বলেন, ‘গত এক মাস আগে এই রোগী আমার কাছে এলে আমি আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে বুঝতে পারি বাচ্চার ত্রুটি আছে। পরে ভালোভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য বরিশালে পরীক্ষা করানো হয় সেই পরীক্ষায় জানা যায় যমজ শিশুদু’টি জোড়া এবং তাদের পাকস্থলীও জোড়া লাগানো। পেটের শিশুদের এই অবস্থার কারণে মায়েরও কষ্ট হচ্ছে। পরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে অবজারভেশনে রাখা হয়।’

রেখা বেগমের স্বামী বশির সিকদার বলেন, এক মাস আগে রেখা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরেন। তাকে ডা: জাকিয়া সুলতানার কাছে নিয়ে যাই। ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাদেরকে বরিশালে আরেকটি পরীক্ষার জন্য পাঠান। ১০ দিন আগে বরিশালে পরীক্ষাটি করাতে গিয়ে তারা জানতে পারেন বাচ্চার ত্রুটি আছে। সে কারণেই বাচ্চার মা বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তখন উন্নত চিকিৎসা নেয়ার কথা বলেন ডাক্তার। কিন্তু আমি আর্থিক সঙ্কটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারিনি।’



আরো সংবাদ