২০ জানুয়ারি ২০২১
`

চাঁদা দাবিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জখম, যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

চাঁদা দাবিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জখম, যুবলীগ নেতা গ্রেফতার - নয়া দিগন্ত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চাঁদার টাকা না দেয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জখম করেছেন ভাইয়া বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার এলিজাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ওই যুবলীগ নেতার নাম সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু। তিনি ভাইয়া বাহিনীর প্রধান ও টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম হাওলাদার (৬৫) বিসমিল্লাহ ব্রিকস নামে একটি ইটভাটার মালিক। যুবলীগ নেতা ও চেয়ারম্যান মশিউর রহমান দীর্ঘ দিন ধরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন শাহ আলমের কাছ থেকে। পরে তিনি ওই চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইটভাটার নিজ অফিস কক্ষে তাকে কুপিয়ে জখম করেন ভাইয়া বাহিনীর সদস্যরা। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এদিকে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতারে নিয়ে যায় স্বজনরা। এ ঘটনায় শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী আকলিমা বেগম যুবলীগ নেতা মশিউরকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আটককৃতদের সোমবার সকালে আদালতে পাঠিয়েছে কলাপাড়া থানা পুলিশ। এসময় আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে তা খারিজ করে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের হয়েছে। পরে মামলার প্রেক্ষিতে শান্তিপুর গ্রাম থেকে চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া বাকি আসামিরা হলেন নেসার হাওলাদার, নাইম হোসেন ও মো: ইমরান। তাদের এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মশিউর রহমান শিমুর স্ত্রী এলিজা বেগম পাশের চাকামইয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী। ওই কারণে চাকামইয়া ইউনিয়নকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত কয়েক মাস ধরে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নানা ধরনের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক দিন আগে ইসলামপুর এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী। চাকামইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির কেরামত হাওলাদার দাবি করেন, শিমুর ভাইয়া বাহিনী শান্ত চাকামইয়া ইউনিয়নকে অশান্তকরে দিয়েছে।



আরো সংবাদ