২৫ অক্টোবর ২০২০

মিন্নি কেন আইনজীবীর জিম্মায়

মিন্নি কেন আইনজীবীর জিম্মায় - ছবি সংগৃহীত

বরগুনার বহুল আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে উচ্চ আদালতের দেয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার মনোনীত আইনজীবীর জিম্মায় দেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: আছাদুজ্জামান মিয়া এই আদেশ দেন।

এর আগে নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী মিন্নিকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য উপস্থাপিত যুক্তিখণ্ডনের দিন ধার্য থাকায় সকাল ৯টার দিকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সাথে আদালতে আসেন মিন্নি। এছাড়াও নিরাপত্তার সাথে আদালতে হাজির করা হয় এ মামলায় কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকেও।

এ বিষয়ে মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার সাথে সাথে উচ্চ আদালতের দেয়া মিন্নির জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর মিন্নিকে আমার জিম্মায় জামিনে মুক্ত রাখার জন্য আবেদন করি। পরে আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করে রায়ের আগ পর্যন্ত মিন্নিকে আমার জিম্মায় জামিন দিয়েছেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার দিন মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ জুন রিফাত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ এর এক দিন পর ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর গত বছরের ১৬ জুলাই মিন্নিকে তার বাবার বাসা থেকে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই দিন রাতেই মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
পরে গত বছরের ১৭ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত মিন্নির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ২০ জুলাই পাঁচ দিনের রিমান্ডের তৃতীয় দিনেই মিন্নি একই আদালতে রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী।

টানা ৪৯ দিন কারাভোগের পর গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের সাথে কথা না বলার শর্তে উচ্চ আদালতের নির্দেশে বরগুনার কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে বাবার বাড়িতে রয়েছেন।

 


আরো সংবাদ