১০ জুলাই ২০২০

প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাওয়ার সময় কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ৬

প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রেমিকা ধর্ষণ, গ্রেফতার ৬ - নয়াদিগন্ত

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় প্রেমিকার সাথে পালিয়ে বিয়ে করতে যাওয়ার পথে বখাটেদের কবলে পড়ে এক কলেজছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছন ওই ছাত্রী। একই সঙ্গে ওই ছাত্রী, তার প্রেমিক ও প্রেমিকের এক বন্ধুকে অপহরণ করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবীর অভিযোগও করা হয়েছে ওই মামলায়।বৃহস্পতিবার রাতে অপহরণ, ধর্ষণ ও চুরির ধারায় (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এর ৭/৮/৯(১)/৩০ সহ পেনাল কোড ৩৭৯) এ মামলাটি দায়ের করেন।

পুলিশ মামলায় অভিযুক্ত ১০ জনের মধ্যে মা-মেয়েসহ ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ধর্ষিত কলেজছাত্রী, তার প্রেমিকা ও বন্ধুকে। গত বুধবার রাতে উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউপির পাটিখালঘাটা বাজার সংলগ্ন মাঝের পোল নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, জানান কাঁঠালিয়া থানার ওসি পুল চন্দ্র রায়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পাটিকালঘাটা গ্রামের আফজাল জমাদ্দারের ছেলে মো. রিপন জমাদ্দার (১৯), বেল্লাল হোসেন হাওলাদারের ছেলে মো. রাকিব হাওলাদার (১৯), বাচ্ছু খানের স্ত্রী হোসনে আরা (৩৮) ও তার মেয়ে তানিয়া বেগম (২০), একই উপজেলার পশ্চিম চেচরী গ্রামের সারু খানের ছেলে বেল্লাল খান (২৩) এবং পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার গাজীপুর গ্রামের মো: মহারাজ হাওলাদারের ছেলে আক্কাস হাওলাদার (২৬)।

মামলার উধৃতি দিয়ে কাঁঠালিয়া থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় বলেন, পিরোজপুর জেলার বইঠাকাটা উপজেলার একটি ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীটি তার প্রেমিক মো. রিমন ওরফে তানভীর হাওলাদারকে বিয়ে করার জন্য বাড়ি থেকে চলে আসে।

একটি মটরসাইকেলে করে মেয়েটি প্রেমিক মো. রিমন ও তার বন্ধু রায়হানের সাথে পিরোজপুরের বৈঠাকাটা থেকে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার প্রেমিক রিমনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। বুধবার রাত ১২টার দিকে ভুল করে কাঁঠালিয়া উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউপির পাটিখালঘাটা মাঝের পোল নামক স্থানে আসলে স্থানীয় ছালাম হাওলাদারের ছেলে মো. জনি হাওলাদার (২৩) মামলার আসামিদের নিয়ে তাদের আটক করে। এসময় মামলার আসামিদের সহযোগিতায় জনি ওই কলেজছাত্রীকে পার্শ্ববর্তী একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ওই ছাত্রীকে হোসনে আরার বাড়িতে আটকে রাখা হয়। তার প্রেমিক রিমন ও বন্ধু রায়হানকে একটি কাঠের ঘটে বেঁধে আটকে রাখে জনির নেতৃত্বে আসামিরা।

পরে প্রেমিক রিমন ও বন্ধু রায়হানের বাড়িতে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে আসামিরা। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে মুক্তিপণ দাবীর ৩০ হাজার টাকা নিয়ে রিমনের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে স্থানীয়দের সহয়তায় পুলিশ টাকা নিতে আসা রিপন জমাদ্দারকে আটক করে। পরে আটক হয় অন্য ৫জন । এসময় ঘটনাস্থল থেকে ওই কলেজছাত্রী, তার প্রেমিক ও বন্ধুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে মামলার মূল আসামি জনিসহ ৪ জন এখনো পলাতক রয়েছে। আসামিরা কলেজছাত্রীর প্রেমিক ও বন্ধুকে মারধর ছাড়াও নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি পুলক চন্দ্র রায়।


আরো সংবাদ