২৬ অক্টোবর ২০২০

ঘরে খাবার নেই, চাল উড়ে গেছে আমফানে

-

স্বামী পরিত্যক্তা নারী হাসিনা খাতুন (৩৫)। তার পরিবারে উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলে তুহিন (১৫)। লকডাউনে সেও এখন বেকার। নিজে মানুষের বাসায় কাজ করে একমুঠো ভাতের যোগার হতো হাসিনার। চলমান সংকটে কেউ কাজে ডাকেন না। আহারে-অর্ধাহারে কাটছিল দিন।

সংসারে যখন এমন অভাবের দিন তখনই আমফানের প্রবল বাতাসে উড়ে গেছে ঘরের চালা। থাকার একমাত্র ঘরের টিনের চাল উড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। একদিকে ঘরে খাবার যোগাতে ছুটতে হয় অন্যের কাছে। আরেক দিকে মাথার ওপর ছায়া নেই।

হাসিনার বাড়ি পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের আগুনমুখা নদীর পাড়ের কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট এলাকায়। বাড়ি বলতে মা জাবেদা খাতুনের (৬৫) ছোট্ট টিনের একটি ঘর।

১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয় হাসিনা খাতুনের। ছেলে তুহিনের কোলে আসার পর স্বামী তাকে ফেলে চলে যায়। স্বামী পরিত্যাক্তা হাসিনা বেগম মায়ের কাছেই থেকে যান। মা ও মেয়ে দুইজনে অন্যের বাড়িতে কাজ করে চালতো তাদের সংসার।

এদিকে, ছেলে তুহিন বড় হওয়ার পরই ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলের চালক হয়। দ্বীপ উপজেলার লোকজন ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলেই বেশি চলাফেরা করে। এই ছোট বয়সে ভালোই আয় করতো তুহিন। কিন্তু করোনা সংক্রমণ এড়াতে চলমান লকডাউনে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ। এই অবস্থায় তুহিনের আয় নেই বললেই চলে।

এখন সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনের দেয়া খাদ্যসহায়তায় একমুঠো খাবার যোগার হচ্ছে। কিন্তু ঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের ‍নিচেই থাকতে হচ্ছে তাদের।

হাসিনা খাতুন বলেন, আগুনমুখা নদীর পাড়ে লঞ্চঘাট এলাকায় মায়ের কাছে আছি। আমার ছেলে তুহিন লঞ্চঘাটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বসে থেকে যাত্রী নিয়ে ছোটাছুটি করতো। যেমনই হোক মা-ছেলে ভালোই ছিলাম। কিন্তু করোনার লকডাউন ও ঘূর্ণিঝড় আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে।


আরো সংবাদ