০২ জুন ২০২০

ত্রাণ দেওয়ার নামে ধর্ষণকারী সেই ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে মামলা

ত্রাণ দেওয়ার নামে ধর্ষণকারী সেই ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে মামলা - সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব রোধে সরকারী খাদ্য সহায়তা দেওয়ার নামে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষণের শিকার ওই মেয়ে বাদী হয়ে তালতলী থানায় মামলা করেন।

জানাগেছে, প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের পূর্ব বাদুরগাছা এলাকার দিনমজুর সোবাহানের পরিবার খাদ্য সংঙ্কটে পড়ে। গত ৬ এপ্রিল সোমবার এ বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন খাঁনকে জানায় কর্মহীন সোবাহান। ইউপি সদস্য তাকে সরকারী খাদ্য সহায়তার অন্তর্ভূক্ত করার আশ্বাস দেন এবং তার মেয়েকে জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে আসতে বলেন। ইউপি সদস্যের কথামত মঙ্গলবার বিকেলে ওই দিনমজুর সোবাহানের বিবাহিত কন্যা ইউপি সদস্যের বাড়িতে জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে যায়। ওই সময়ে ইউপি সদস্যের বাড়ীতে কেউ ছিল না। সুযোগ বুঝে ইউপি সদস্য তাকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করেন।

এদিকে স্ত্রীকে বাড়ীতে না পেয়ে তার স্বামী ইসরাফিল ইউপি সদস্যর বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে স্ত্রীকে কান্নাকাটি করতে দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে স্ত্রী ইসরাফিলের কাছে সকল ঘটনা খুলে বলে। তাৎক্ষনিক ইউপি সদস্য ওই মেয়ের স্বামীকে এই ঘটনা কাউকে জানাতে নিষেধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নিরুপায় হয়ে স্বামী-স্ত্রী ওই বাড়ী থেকে চলে আসে। কিন্তু এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই মেয়ের স্বামীকে তার বাড়ী থেকে ইউপি সদস্যের লোকজন তুলে নিয়ে যান এবং পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওইদিন রাতে ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের বিরুদ্ধে তালতলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার সকালে মেয়েটিকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পুলিশ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

নির্যাতিতার স্বামী ইসরাফিল বলেন, খাদ্য সহায়তা পাওয়ার জন্য ইউপি সদস্যের বাড়ীতে আমার স্ত্রী জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে গেলে তাকে ধর্ষণ করে। ওই সময়ে তার বাড়ীতে কেউ ছিল না। আমার স্ত্রী ওই বাড়ীতে যাওয়ার কিছু সময় আমি ইউপি সদস্যের বাড়ীতে যাই। আমি গিয়ে দেখি আমার স্ত্রী অঝোরবেগে কান্না করছে। আমি বিষয়টি ইউপি সদস্যকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য চাপ দেয় এবং বেশী করে খাদ্য সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন। আমি ইউপি সদস্যের হুমকিতে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

তালতলী থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ইউপি সদস্য আনোয়ার খানকে আসামী করে ৯/১ ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন ওই মেয়ে। মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


আরো সংবাদ