০২ জুন ২০২০

দিনাজপুরে আইসোলেশনে থাকা দুজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

দিনাজপুরে আইসোলেশনে থাকা দুজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি - নয়া দিগন্ত

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত সন্দেহে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ বছরের এক শিশু ও ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে আইসোলেশনে থাকা দুইজনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. সোলায়মান হোসেন মেহেদী।

গত সোমবার দুপুরে আট বছরের এক শিশুকে এবং মঙ্গলবার দুপুরে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অ্যাসিসটেন্টকে আইসোলেশনে রাখা হয়। এ সময় তার পরিবারকেও হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. সোলায়মান হোসেন মেহেদী বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর যে সকল লক্ষণ রোগীর মধ্যে থাকে তার প্রায় সব কিছুই আইসোলেশনে থাকা ওই দুজনের মধ্যেআছে।

এদিকে করোনা আতঙ্কে সারাদেশের মানুষই কার্যত গৃহবন্দি। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে রাস্তাঘাট অনেকটাই জনমানব শূন্য। এরকমই অবস্থা দিনাজপুর সদরসহ জেলা ১৩ উপজেলায় রাস্তাঘাটের। এসব এলাকায় রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। গতকাল শনিবার সকাল থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে সব কাঁচাবাজার, মুদি দোকান, ওষুধের দোকান ছাড়া অন্যান্য সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে পুরো এলাকায় নীরব। করোনা প্রতিরোধে মানব দূরত্ব নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি করছে সেনা সদস্যরা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে মানুষকে বাইরে না যেতে সেনা, পুলিশ সদস্য ও তথ্য অফিস মাইকিং করে সতর্ক করছে।এদিকে, জেলার সব মসজিদে শুধু ফরজ নামাজ আদায় করা হচ্ছে। নফল ও সুন্নত নিজ নিজ বাড়িতে আদায়ের জন্য বলা হয়। মসজিদে লোক সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমে আসছে।

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যেন কেউ বাড়াতে না পারেন সে বিষয়টি তারা নিশ্চিত করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই সেনা সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা প্রশাসনের ১৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কাজ করছে।পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল কুদ্দুস জানান, বিদেশফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টিনে রেখে সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনীর টীম মাঠে কাজ করছেন। কোথাও যেন জনসমাগম না হয় সে বিষয়ে তারা সার্বক্ষনিক নজরদারি করছেন।


আরো সংবাদ