১৪ আগস্ট ২০২০

নারীকে উত্যক্ত করছিল ৩ বখাটে, প্রতিবাদ করায় সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রকে পিটিয়ে যখম

সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রাকিবুল ইসলাম - ছবি : নয়া দিগন্ত
24tkt

বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ঘোপখালী আল আমিন দাখিল মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণীর রাকিবুল ইসলাম নামের এক ছাত্রকে বখাটে হিরন তালুকদার, আল-আমিন ও বাচ্চু মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায় ঘোপখালী এলাকার ঘেরের পাড়ে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে আমতলী থানায় ছাত্রের মা রেহেনা বেগম হিরন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গত রোববার ঘোপখালী আল-আমিন দাখিল মাদ্রাসার সামনে আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের এক মেয়েকে ঘোপখালী গ্রামের বখাটে হিরন তালুকদার, আল-আমিন ও বাচ্চু উত্যাক্ত করে। এ ঘটনায় ওই মেয়ের ভাই ও তার লোকজনের সাথে হিরন ও তার বন্ধুদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় ঘোপখালী স্ট্যান্ড থেকে রাকিবুল ইসলামকে বখাটে হিরন, আল-আমিন ও বাচ্চুসহ ৫-৬ জনে ধরে বায়েজিদ তালুকদারের ঘেরে নিয়ে যায়। ওইখানে নিয়ে রাকিবুলকে বেধরক মারধর করে। বখাটেদের মারধরে রাকিবুল জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ছাত্র রাকিবুলকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ছাত্রের মা রেহেনা বেগম মঙ্গলবার হিরন তালুকদার, আল-আমিন ও বাচ্চুর বিরুদ্ধে আমতলী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মঙ্গলবার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখাগেছে, আহত মাদ্রাসা ছাত্র রাকিবুল বেষম ব্যথায় কাতরাচ্ছে। তার পিঠে, চোখের নিতে ও বাহুতে রক্তাক্ত আঘাতে চিহৃ রয়েছে।

আহত রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমি প্রাইভেট পড়ে ঘোপখালী স্ট্যান্ডে গাড়ীর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমন মুহুর্তে হিরন, আল-আমিন ও বাচ্চুসহ ৫-৬ জনে আমাকে ধরে বায়েজিত তালুকদারের ঘেরে নিয়ে যায়। ওই খানে নিয়ে আমাকে বেধরক মারধর করেছে। আমি অনেক অনুনয় বিনয় করেছি। কিন্তু আমার কোন কথাই তারা শুনেনি। তাদের মারধরে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। রাকিবুল আরো বলেন, গত রোববার হিরন আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের একটি মেয়েকে উত্যাক্ত করেছিল। এ নিয়ে আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের লোকজনের সাথে হিরনসহ তার লোকজনের মারধরের ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনার পর থেকে আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের কোন লোক ঘোপখালী আসলেই তাদের মারধর ও লাঞ্চিত করে। আমার বাড়ীও আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামে তাই ওই ঘটনার জের ধরে আমাকে মারধর করেছে তারা। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ বলেন, আহত রাকিবুলের ছোকের নিচে, পিঠে ও বাহুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও জখমের চিহৃ রয়েছে।

আহত রাকিবুলের মা রেহেনা বেগম বলেন, সন্ত্রাসী হিরন, আল-আমিন ও বাচ্চুসহ ৫-৬ জনে আমার ছেলেকে ধরে মাছের ঘেরে নিয়ে বেধরক মারধর করেছে। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার না করলে ওরা আমার ছেলেকে মেরেই ফেলতো। আমার ছেলেকে খুঁজেই পেতাম না।

আমতলী থানার এএসআই মোঃ কাইয়ূম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হিরন তালুকদার একজন বখাটে। এলাকায় তার বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ