গ্যাংরেপ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, ৩ কর্মকর্তাকে সম্মাননা

ফুলদী নদী থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার করে গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। পরিচয় শনাক্তের জন্য বিষয়টি পিবিআই মুন্সীগঞ্জকে অবহিত করা হলে একটি ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে।

আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ

Location :

Munshiganj
সম্মাননা গ্রহণ করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা
সম্মাননা গ্রহণ করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা |নয়া দিগন্ত

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে বিশেষ অবদান রাখায় পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলার তিন কর্মকর্তাকে নগদ অর্থ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি.) রনি দেবনাথ, এসআই (নি.) রামপ্রসাদ ঘোষ এবং এসআই (নি.) মো: জুবায়ের হোসেন।

মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান বিপিএম জানান, গত ২৯ মে গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর এলাকায় ফুলদী নদী থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার করে গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। পরিচয় শনাক্তের জন্য বিষয়টি পিবিআই মুন্সীগঞ্জকে অবহিত করা হলে একটি ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে।

লাশটি গলিত অবস্থায় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে আত্মীয়ের সহায়তায় ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করে পিবিআই।

তদন্তে উঠে আসে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে বড় ভাটেরচর এলাকার একটি নির্জন ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে লাশ নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

পিবিআই চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে তারা আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মামলাটির সফল তদন্ত ও দ্রুত রহস্য উদঘাটনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যেককে নগদ ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানায়, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, পেশাদারিত্ব এবং দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মামলাটির রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরো উৎসাহিত করবে।