১৫ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১, ৮ মহররম ১৪৪৬
`

জেলায় জেলায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

পঞ্চগড়ে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল হক প্রধান : নয়া দিগন্ত -

সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জানানো হয় সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা। বিশেষ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে এ জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতাকে স্মরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিটি এলাকায় বিশেষভাবে সাজসজ্জা করা হয়। এতিমখানা, হাসপাতাল ও কারাগারে পরিবেশন করা হয় বিশেষ খাবার।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়া জিলা স্কুল মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনি ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বগুড়ায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সূচনা করা হয়। শহরের ফুলবাড়ীতে অবস্থিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপু ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। এরপর পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরে জেলার সরকারি-বেসরকারি নানা দফতর ও সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
নোয়াখালী অফিস জানায়, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকের সামনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা করা। জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ, জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, নোয়াখালী প্রেসক্লাব, বিআরটিসিসহ বিভিন্ন দফতর ও রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দলের পক্ষ থেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ ছাড়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও (নোবিপ্রবি) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। নোবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ড. দিদার-উল-আলম এর সূচনা করেন।
শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর জেলাবাসীর পক্ষ থেকে প্রথমে জেলা প্রশাসক শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে পর্যায়ক্রমে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা পুলিশ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসেরর কর্মসূচি শুরু হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান পুষ্পস্তবক অর্পণের পর পর জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল হুদা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আওয়ামী লীগ, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের মাগফিরাত ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সকাল ৮টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়ামে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও বিএনসিসি কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করে। দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলা ও পৌরসভার সকল মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পঞ্চগড় পৌরসভা।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সকালে মানিকগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীন, সাধারন সম্পাদক আব্দুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা, সাধারণ সম্পাদক এস এ জিন্না কবির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতিশ্বর পাল, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. রেজাউল করিম, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু প্রমুখ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিরাজ-তপন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ।
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি জানান, সকালে শহরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠসংলগ্ন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান ও জেলা পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলম। এ ছাড়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিটি করপোরেশন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, গাজীপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। সকালে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর রাজবাড়ী রোডস্থ দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ^বিদ্যালয় ও ডুয়েট নানা কর্মসূচি
পালন করে।
ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভসূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতার বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম। এরপর পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ঝালকাঠি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। একই স্থানে বিভিন্ন বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে করা হয়। ঝালকাঠি উপজেলাগুলোতেও ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হয় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।


আরো সংবাদ



premium cement