০৭ জুন ২০২৩, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০, ১৭ জিলকদ ১৪৪৪
`

মিরসরাইয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পাড়ায় সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কট

দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে আনছেন মিরসরাইয়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকরা : নয়া দিগন্ত -

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পাড়ায় এখনো সুপেয় পানির সঙ্কট কাটেনি। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির জন্য এসব এলাকায় হাহাকার পড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীর লোকদেরকে দুই-তিন কিলোমিটার দূরের ছড়া থেকে পানি সংগ্রহ করে আনতে হয়। তাও আবার বিশুদ্ধ পানি নয়। অসচ্ছল পরিবারগুলো মাঝে মধ্যে সচ্ছল পরিবার থেকে মাসিক হারে পানি কিনে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চালায়। তাই এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন পাহাড়ের এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলায় চারটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পাড়া রয়েছে। পাড়াগুলো হলো- মিরসরাই সদর ইউনিয়নের তালবাড়িয়া, খৈয়াছরা ইউনিয়নের নাপিত্তাছরা, করেরহাট ইউনিয়নের সাইবেনীখিল ও নলখো। এসব পাড়ায় ৩৫০টি পরিবারে প্রায় আড়াই হাজার ত্রিপুরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করছে। কিন্তু এসব পাড়ায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। গুটিকয়েক পরিবারে নলকূপ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেরা কুয়া ও সচ্ছল পরিবারগুলো থেকে পানি কিনে ব্যবহার করেন।
নাপিত্তাছরা ত্রিপুরা পাড়ার গোত্র প্রধান সুমন ত্রিপুরা জানান, সরকারিভাবে দুই পাড়ার জন্য একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপিত হলেও সেটি এখন বিকল। দীর্ঘ দিন মেরামত না হওয়ায় এটি ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে গেছে। এখন ছড়ার পানিই তাদের একমাত্র ভরসা। যোগাযোগব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। সমতলের সাথে সরাসরি কোনো রাস্তা না থাকায় পাহাড় ও ছড়ার ধার দিয়ে কোনো রকমে যাতায়াত করেন তারা। পাড়ার চন্দন ত্রিপুরা বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় দুই পাড়ার কারোর চোখে ঘুম থাকে না। ১০ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখালে আমরা অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় থাকি।
মিরসরাই সদর ইউনিয়নের তালবাড়িয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পাড়ায় ১৩০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারে প্রায় ৭০০ লোকের বাস। চার বছর আগে ওই পাড়ায় উপজেলা পানি ব্যবস্থাপনা ফোরামের সভাপতি ডা: জামশেদ আলমের উদ্যোগে ১৩টি কুয়া খনন করা হয়। কিন্তু ১৩টি কুয়ার মধ্যে তিনটিতে পানি পাওয়া যায়নি। পরে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে একটি রিং টিউবওয়েল দেয়া হয়েছিল; কিন্তু সেটিও নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ওই পাড়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা সুরেন্দ্র ত্রিপুরা।
করেরহাট ইউনিয়নের সাইবেনীখিল পাড়ায় ৮০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারে পাঁচ শতাধিক লোকের বাস। ওই পাড়ায় ৩৫টি পরিবারে টিউবওয়েল থাকলেও বাকিদের নেই। তাই যাদের কাছে টিউবওয়েল রয়েছে তাদের কাছ থেকে মাসিক ৫০-১০০ টাকায় বিশুদ্ধ পানি কিনে বাকিরা জরুরি প্রয়োজন মেটান বলে জানিয়েছেন ওই পাড়ার বাসিন্দা ঊষা ত্রিপুরা।
এ ছাড়া ওই ইউনিয়নের নলখো পাড়ায় ১১০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবার রয়েছে। পরিবারগুলোয় প্রায় ৭০০ মানুষ বসবাস করে। তাদের মধ্যে ৪৫-৫০টি পরিবারে নলকূপ রয়েছে। এ ছাড়া করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়নের প্রতিষ্ঠা করা ‘ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ একটি গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) স্থাপন করায় খাওয়ার জন্য পাড়ার লোকজন ওই পানি ব্যবহার করছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা অনিল ত্রিপুরা।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের অনেকেই পাহাড়ি ছড়া থেকে পানি সংগ্রহ করেন। ছড়ার পানি বিশুদ্ধ না হওয়ায় অনেকসময় তারা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হন।
মিরসরাই উপজেলা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ফোরামের সহসভাপতি সুরেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পাড়ায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট কাটছেই না। পানি নিয়ে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের তালবাড়িয়া পাড়ায় স্থানীয়দের মাঝে মাঝেই ঝগড়া হয়। তিনি পাড়াগুলোয় সরকারিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি জানান। এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কে এম সাঈদ মাহমুদ জানান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পাড়াগুলোয় চাহিদা অনুসারে গভীর নলকূপ স্থাপনের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।


আরো সংবাদ


premium cement
সাত বছর পর সৌদি আরবে দূতাবাস খুললো ইরান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে : টুকু ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রিওয়ালারা কোথায় গেলো : সালাম জিএমপির নতুন কমিশনার মাহবুব আলমের যোগদান ইনজুরি ও গরমের সাথে ভিসার টেনশন লাইটহাউজ প্রকল্পে দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক ডিএনসিসির সব রাস্তা ও ফুটপাথে গাছ লাগানো হবে : মেয়র আতিক তেলাপোকা মারার স্প্রেতে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একজন গ্রেফতার পুলিশ কনস্টেবল হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড পিএইচডি ডিগ্রির সাথে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্রের সামঞ্জস্য জরুরি বাংলাদেশ-ভারত সেনাবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

সকল