০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯, ১১ রজব ১৪৪৪
ads
`

মুরাদনগরে ৯ বছর ধরে পরিত্যক্ত স্কুল ভবন

হিন্দুদের আখড়ায় চলে পাঠদান
মুরাদনগরের রামপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবন : নয়া দিগন্ত -

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের রামপুর (দ:) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্যালয়টির একমাত্র ভবন গত ৯ বছর আগে (২০১৩ সালে) পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর তা সিলগালা করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। আজ পর্যন্ত স্কুলে কোনো ভবন নির্মাণ না হওয়ায় যাযাবরের মতো ছাত্রদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। অবশেষে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বর্তমানে হিন্দুদের একটি আখড়ায় শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এভাবে যাযাবরের মতো শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬০ শতাংশ কমে গেছে। লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ওই এলাকার কোমলমতি শিশুরা।
বিদ্যালয় ও স্থানীয়রা জানায়, ১৯৪০ সালে স্থানীয় কয়েকজন দানশীল ব্যক্তির সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতাপরবর্তী ১৯৭৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অধীনে বিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয় চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি একতলা ভবন, যা ২০১৩ সালে ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরিত্যক্ত ঘোষণার পর ৪১৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বড় বিপাকে পড়ে যান শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে টানা দুই বছর বিদ্যালয়ের পাশে থাকা হিন্দুদের একটি আখড়ায় (সমাধিস্থল) খোলা আকাশের নিচে চলে তাদের পাঠদান। ২০১৫ সালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই আখড়ায় টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি দু’টি কক্ষে আজ সাত বছর ধরে চলছে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম।
এ বিষয়ে রামপুর (দ:) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিত্রা পাল বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এখনো কোনো ভবন পাইনি। ফলে ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার সময় যে শিক্ষার্থী ছিল বর্তমানে তার অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে।
এ ব্যাপারে মুরাদনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফওজিয়া আকতার জানান, বার্ষিক জরিপ শুমারিতে আমাদেরকে কিছুটা ভুল তথ্য দেয়া হয়েছিল। যে কারণে এতদিন নতুন ভবন আসেনি। আশা করি, এখন নতুন ভবন এলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এটিই আগে করা হবে।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনি বলেন, সম্প্রতি বিষয়টি জানতে পেরেছি। এখন জরুরি ভিত্তিতে স্কুলে একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাবো।


আরো সংবাদ


premium cement