২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

সংযোগ সড়কের অভাবে অকেজো সাড়ে ১০ কোটি টাকার সেতু

গোলাপগঞ্জে কুড়া নদীর ওপর সংযোগ সড়কবিহীন সেতু : নয়া দিগন্ত -

সিলেটের গোলাপগঞ্জের কুড়া নদীর উপর প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দ্বিতীয় কুড়া সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ আজো সম্পন্ন হয়নি। এ কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের পাশাপাশি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপজেলাবাসী। নির্মাণের প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়কের অভাবে নির্মিত সেতুটি জনগণের কোনো কাজেই আসছে না। সংযোগ সড়কটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে সেতুর আশপাশের ১০-১২টি গ্রামের মানুষ ছাড়াও বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলাসহ তিন উপজেলার হাজারো লোকজন এ পথে চলাচল করতে পারবে।
দীর্ঘ প্রায় এক যুগ অযতœ অবহেলার কারণে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখন জীর্ণশীর্ণ অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়রা জানান, সেতু থেকে কোনাগাঁও রাকুয়ারবাজার খেয়াঘাট পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটার সংযোগ সড়ক হলেই আলমপুর, ছিলিমপুর, কোনাগাঁও, তারাপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম যোগাযোগের আওতায় আসবে। সেই সাথে স্থানীয় হাটবাজারে বৃদ্ধি পাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জোগান।
জানা যায়, উপজেলার কোনাগাঁও রাকুয়ারবাজার, আলমপুর, উত্তর আলমপুর ছিলিমপুর, কোনাগাঁও, তারাপুর গ্রামসহ বিয়ানীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা এবং মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার একাংশের মানুষজনের চলাচলের জন্য সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। প্রায় ১০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেতুটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এভাবে রাজনৈতিক পালাবদল আর নানা টালবাহানায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ২০১২ সালে শেষ হয় সেতুটির নির্মাণকাজ। সংযোগ সড়ক ছাড়াই কুড়া সেতু উদ্বোধন করা হলেও আজ পর্যন্ত সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। যে নকশা অনুযায়ী সড়কের কাজ এগিয়ে নেয়ার কথা ছিল সেটি আর আলোর মুখ দেখছে না। এমন বাস্তবতায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সেতুটির প্রকল্প রহস্যজনক কারণে ফাইলবন্দী রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে মধ্যে পড়েছে এলাকার হাজার হাজার মানুষ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সেতুর এক প্রান্ত ঢাকা দক্ষিণ-ভাদেশ্বর সড়কে মিলিত হলেও অপর প্রান্তে নেই সংযোগ সড়ক। সংযোগ সড়কের অভাবে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কোনো কাজেই আসছে না কুড়া নদীর উপর নির্মিত সেতুটি। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত কিংবা চিকিৎসাসেবাসহ যেকোনো প্রয়োজনীয় কাজে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এলাকার সাধারণ লোকেরা।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিলেট অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে, এখন বাকি শুধু সংযোগ সড়ক। এলাকার মানুষজনের কথা বিবেচনা করে ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সড়কটি কোনো প্রকল্পের আওতায় এনে সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে। বিষয়টি প্রস্তাব আকারে উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে আশা করা হচ্ছে খুব শিগগিরই।


আরো সংবাদ


premium cement