০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

লালমনিরহাটে ৫৬ হাজার বস্তা সার সিন্ডিকেটের দখলে

লালমনিরহাটে এক ডিলারের দোকানে সারের বস্তার স্তূপ। ইনসেটে খোলা ইউরিয়া সার : নয়া দিগন্ত -

চলতি বছরের আগস্ট মাসে লালমনিরহাটে প্রায় ৫৬ হাজার বস্তা ইউরিয়া সার ডিলার সিন্ডিকেটের পকেটে চলে গেছে। বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলাররা প্রতি মাসেই ডিও আকারে সার উত্তোলন করে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সেই সার বিক্রি করছেন না। উল্টো সেই সার তারা শহরের গোডাউনে নিয়ে মজুদ করছেন। এভাবে তারা বাজারে সারের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে পরিশেষে খুচরা বাজারের বেশি দামে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, শুধু আগস্ট মাসেই কৃষকদের জন্য ৫৫ হাজার ৯৮০ বস্তায় দুই হাজার ৭৯৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি বস্তার জন্য সরকারি নির্ধারিত মূল্য ধরা থাকে ১১ শ’ টাকা। এই মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে কেউ সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার বিধান রয়েছে।
জানা গেছে, বাফার গোডাউনে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এসব সার সরকার অনুমোদিত বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলাররা ডিও আকারে উত্তোলন করে প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করছেন না। সিন্ডিকেট করে তারা প্রতি মাসেই সার উত্তোলন করে শহরের গোডাউনে নিয়ে সেই সার মজুদ করেছেন। এভাবে বাজারে সৃষ্টি করেছেন সারের কৃত্রিম সঙ্কট।
জানা গেছে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সারের দুর্নীতিটা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। গত এক মাসে দুই কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত বাণিজ্য করেন বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলাররা। আর অতিরিক্ত দামে সার কিনে খেসারত দিতে হয়েছে কৃষকদের। অথচ এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা। অভিযোগ উঠেছে, ডিও বিক্রির টাকার একটি অংশ চলে যায় উপজেলাপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের পকেটে। এমনকি ডিও বিক্রিতে সহযোগিতাসহ বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলারদের দোকানে দোকানে বসে ডিও-প্রতি টাকা কালেকশন করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে শুধু আগস্ট মাসে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছ থেকে দুই কোটি টাকারও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ডিলাররা। ফলে কৃষিতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আদিতমারীর কমলাবাড়ীর সবজিচাষি আলাল মিয়া বলেন, এলাকার ডিলারের দোকান বন্ধ থাকে সারাক্ষণ। তাই খুচরা দোকান ছাড়া সার কেনার আর কোনো উপায় থাকে না আমাদের। পলাশীর কৃষক রহিম, বকুল মিয়া, সালামেরও একই অভিযোগ। প্রতি বস্তা সারের সরকারি মূল্য ৭৫০ টাকা। সেই সার কিনতে হয়েছে ১৬ শ’ টাকায়। এতে প্রতি বস্তা এমওপি সারে ৮৫০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ হামিদুর রহমান জানান, সেপ্টেম্বর মাস থেকে ডিলারদের সার বিক্রির ওপর কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকছেন। কেউ অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, কেউ অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।


আরো সংবাদ


premium cement