২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯, ৩০ সফর ১৪৪৪ হিজরি
`

ফরিদপুরে শোক দিবসে মুখোমুখি অবস্থানে আ’লীগের দুই গ্রুপ

সালথায় অনুষ্ঠান বন্ধ, নগরকান্দায় তোরণ ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে
-

জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিকে ঘিরে ফরিদপুরের সালথা ও নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় সালথায় শোক দিবস পালনের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। নগরকান্দায় নির্মিত তোরণ ও পোস্টার রাতের আঁধারে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় দলের প্রতিপক্ষকে দুষছেন তারা।
জানা গেছে, সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী সাব্বির আলী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান ও উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রামকান্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইশারত হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ শোক দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়। এ উপলক্ষে তারা সালথা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরির সময় শনিবার রাতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সংশ্লিষ্টদের বাধা দেয়। ফলে রাতের মধ্যেই সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী সাব্বির আলী বলেন, আমরা কুরআন খতম, দোয়া ও খাবার বিতরণের আয়োজন করেছিলাম; কিন্তু আমাদেরকে রীতিমতো হুমকি দিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়।
সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকির মিয়া জানান, নগরকান্দা-সালথা সংসদ উপনেতার এলাকা। এখানে সবাইকে উপনেতার অনুসারী হিসেবে একত্রে শোক দিবস পালন করা উচিত।
সালথা থানার ওসি শেখ সাদী বলেন, জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে সালথা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের অনুষ্ঠানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। এ পরিস্থিতিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে অনুষ্ঠানের আয়োজন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এ দিকে জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে ফরিদপুরের নগরকান্দায় জেলা মৎস্যজীবী লীগের তোরণ ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের শশা গ্রামের কাজী মঞ্জিলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি কাজী আব্দুস সোবহান এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রী মহল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও তোরণের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।
তিনি বলেন, গত শনিবার রাতে জয়বাংলার মোড়ের গেটটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন এগুলোও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। নগরকান্দা থানার সামনে, স্কুল মাঠে, পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে, সালথা, কাগদি বাজার, মাঝারদিয়া বাজার এলাকার সব পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়।
এ ব্যাপারে নগরকান্দা পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা নিমাই চন্দ্র সরকার বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে না তারাই শোক দিবসের কর্মসূচিকে ঘিরে এহেন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।
সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী বলেন, আমরা নগরকান্দা-সালথা এলাকায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। দলের মধ্যে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি তৈরি করা ঠিক না।


আরো সংবাদ


premium cement