০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯, ৫ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

বাম্পার ফলনেও খুশি নন কাউখালীর আমড়া চাষিরা

-

কাউখালীতে এ বছর আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। পুষ্টিকর ফল আমড়ার চাহিদা দিন দিনই বাড়ছে। মৌসুমে বাজার ছাড়াও পথে পথে প্রচুর বিক্রি হয় আমড়া। আমড়া অর্থকরী ফল হিসেবেও নিজের জায়গা করে নিয়েছে। ফলে বেড়ে গেছে চাষ ও উৎপাদন।
উপজেলায় চলতি মৌসুমে গত চার বছরের তুলনায় আমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু আমড়ার দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় চাষিদের মুখে নেই হাসি। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় এর ফলন বেশি বলেই ‘বরিশালের আমড়া’ বলেই এই ফলের পরিচিতি বেশি। পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা ছাড়াও স্বরূপকাঠী ও নাজিরপুরে আমড়ার আবাদ হয় বেশি। এসব এলাকায় এমন কোনো বাড়ি পাওয়া যাবে না যে বাড়িতে একটি হলেও আমড়া গাছ নেই। বহু মানুষ পতিত জমি কেটে আইল তৈরি করে, আবার কেউ কেউ ফসলি জমিতে আমড়ার বাগান করেছেন। কোনো কোনো চাষির বাগান থেকে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় হয়। শ্রাবণ ভাদ্র মাসে পরিপক্ব আমড়া পাওয়া যায়। বেপারীরা ফাল্গুন চৈত্র মাসে কুড়ি দেখেই আগাম টাকা দিয়ে বাগান কিনে রাখেন। আবার অনেক চাষি ভরা মৌসুমে নিজেরাই বাজারে আমড়া বিক্রি করেন।
উপজেলার প্রধান বন্দর লঞ্চঘাট, দণি বাজার, পাঙ্গাশিয়াসহ বিভিন্ন বড় বাজারে রয়েছে আমড়ার আড়ত। ওই সব আড়তে বেপারীদের কাছ থেকে আমড়া কিনে ঢাকা, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মেঘনাঘাট এলাকায় চালান করা হয়। সেখানে আড়তদাররা বিভিন্ন মোকামের খুচরা বিক্রেতা ও পাইকারদের কাছে আমড়া বিক্রি করেন।
উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের আমড়া চাষি মিরাজ হাওলাদার জানান, মধ্যস্বত্ব ভোগীদের অধিক মুনাফার কারণে আমড়া উৎপাদনকারী গৃহস্থরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সে কারণেই আমড়া চাষিরা বাম্পার ফলনে খুশি হয়েও যেন খুশি নন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরীফ বলেন, গত দুই বছরের চেয়ে এ বছর আমড়ার ফলন শতকরা ২০-২৫ ভাগ বেশি হওয়ায় দামও কিছুটা কম।


আরো সংবাদ


premium cement