১২ আগস্ট ২০২২
`

বন্ধ নেই এনজিওর কিস্তি আদায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন জেলেরা

সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা
৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে দশমিনার গোলখালী মৎস্যঘাটে নোঙর করে রাখা মাছ ধরার নৌকা : নয়া দিগন্ত -

চলছে মাছের প্রজনন মৌসুম। তাই সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সমুদ্রে চলছে ৬৫ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। এ সময় সমুদ্রে যে কোনো ধরনের মাছ শিকার আইনত সম্পূর্ণ দণ্ডনীয়। ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর এ নিয়ম চলে আসছে। এ বছরও গত ২০ মে থেকে আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকবে। আর এ কারণে জেলেদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। প্রতিটা দিন তাদের কাটছে দুর্বিষহ অবস্থায়। এক দিকে আয় রোজগারের কোনো পথ নেই, অন্য দিকে বিভিন্ন এনজিওর কিস্তির চাপে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ঘরবাড়ি ছেড়ে। সরকারিভাবে ৮০ কেজি করে চাল দেয়া হলেও সব জেলের হাতে তা পৌঁছাচ্ছে না।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে ২০১২ সালে একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে। তবে তখন এটির কোনো নীতিমালা ছিল না। নীতিমালা হয় ২০১৯ সালে। নীতিমালা হওয়ার পরও বিভিন্ন সমস্যার কারণে এটির কাজ শুরু করা যায়নি। তবে ২০২১ সালের শেষের দিকে জেলে নিবন্ধন হালনাগাদের কাজ শুরু হয় এবং ২০২২ সালে তা সম্পন্ন হওয়ার কথা। যেমন দশমিনা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে তালিকা হালনাগাদের কাজ প্রায় শেষের দিকে। তবে এ উপজেলায় দুই হাজার ৪১৮ জন সমুদ্রে মাছধরা জেলেকে চাল দেয়া হয়েছে।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের জেলে শাহ আলম খাঁ বলেন, কিস্তির কারণে পালিয়ে থাকতে হয় আমাদের অনেককে। কিন্তু পরিবার পরিজন নিয়ে কত দিন আর এ রকম পালিয়ে থাকা যায়? আমরা যদি আমাদের মালিক মহাজনদের বলি আমাদের কিছু টাকা দিতে, তারা খুব একটা সাহায্য করেন না। যতটুকু পারি ততটুকু দিয়ে একজন মানুষ ঠিকমতো চলতে পারে না। বরং আমাদের বিভিন্ন মানুষের থেকে চড়া সুদে টাকা এনে জীবন চালাতে হয়। আমরা অনেকে জেলে চালটাও পাই না। চাল পায় যারা গাড়ি চালায়, অন্য মানুষের সাথে কাজ করে বা আগে জেলে ছিল কিন্তু এখন অন্য কাজ করে এমন ধরনের অনেকে। সাত থেকে আট বছরে নতুন কোনো জেলে কার্ড না হওয়ায় বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে আমাদের।
উপজেলার গোলখালীর জেলে মিলন বলেন, ‘এই ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় আমাগো বইয়া বইয়া খাইতে হইতাছে। মাছ ধরা ছাড়া এই বন্ধের সময় অন্য কোনো কাজ পাই না আমরা অনেকেই। মালিক মহাজনগো কাছে থেকেও কোনো সাহায্য পাই না। পাই খালি জাইলা নামের সরকারি চাল। এহন হুদা চাউল দিয়া কি আর জীবন-সংসার চলে? লম্বা নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন তিনি । ঘরে হলুদ মরিচ তেল ডাল সবই কিনা লাগে। ঘরের কেউর জদি অসুখ হয় তাইলে ওষুধের টাকাও লাগে। আমাগো চাউল লাগবে না, আমাগো মাছ ধরতে দেলেই হইবে। মা ইলিশের লইগ্গা ঝাটকার লইগ্গা আবার এই ৬৫ দিন মিলাইয়া বছরে ছয় মাস আমরা মাছ ধরি। আর ছয় মাস বইয়া খাওয়া লাগে আমাগো।’
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাটে মৎস্য ব্যবসায়ী মিরাজ খাঁ জানান, জেলেদের ওপর সরকারের আরো একটু সদয় হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। যদিও সরকার আমাদের সবার ভালোর জন্যই মৎস্য শিকারের ওপর অবরোধ দিয়ে থাকে, তথাপি তাদের দিকটা একটু আন্তরিকতার সাথে ভাবা উচিত। তবে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞাকালে যদি এনজিওকে কিস্তি দিতে না হতো তাহলে জেলেদের একটু সুবিধা হতো। আমরা জেলেদের আর্থিকভাবে কিছুটা সাহায্য করে থাকি তবে সেটি তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। বছরের কয়েকটা মাস আমাদের মাছের আড়ত থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা-বাণিজ্য থাকে না বললেই চলে। এ সময় আমাদের অবস্থাও অনেকটাই জেলেদের মতো হয়ে যায়।
দশমিনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, ৬৫ দিন ধরে সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। আর বিভিন্ন এনজিও থেকে জেলেরা যে ঋণ নেয় সেটি নিয়েও আমরা কাজ করেছি। তারা বিভিন্ন এনজিও বা প্রতিষ্ঠান থেকে যে ঋণগুলো নিচ্ছে তা কিন্তু তারা যে জেলে বলে নিচ্ছে না। তারা তাদের স্ত্রীর নামে বা অন্যান্য উপায় অবলম্বন করে এই ঋণ তুলছে। এ ব্যাপারে আমাদের আসলে কিছু করার নেই। যদি তারা জেলে দেখিয়ে ঋণ নিতে পারত তাহলে আমরা কিছু করতে পারতাম।

 


আরো সংবাদ


premium cement
আড়াই মাসের মিষ্টি কুমড় চাষে লাভ হলো ৩৫ লাখ টাকা জাবির ভিসি প্যানেল নির্বাচন আজ, অংশ নিচ্ছে আ’লীগের ৩ গ্রুপ ড্রোন উড়ানো কেন নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত পারমাণবিক কেন্দ্র রুশ বাহিনীর দখলমুক্ত করতে বিশ্বের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান ফতুল্লায় চালককে ছুরিকাঘাতে খুন করে মিশুক ছিনতাই ফতুল্লায় বাল্কহেডের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলারডুবি ইউক্রেন নয় ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে রাশিয়া : মস্কো ইউক্রেনের পরমাণু কেন্দ্রে ফের বিস্ফোরণ রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার, গ্রেফতার ৪ আরো পশ্চিমা সহায়তার আবেদন করলেন ইউক্রেনের জেলেনস্কি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হিজড়াদের সংঘর্ষ : ৫ হিজড়া হাসপাতালে

সকল